ভারত সফরে নেপালি শাসকদলের প্রধান,দিল্লির সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সহযোগিতার বার্তা

  • আন্তর্জাতিক ডেস্ক
  • ২০২৬-০৬-০৩ ১০:৪৯:০৫
image

নেপালের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর প্রথমবারের মতো ভারত সফরে গেছেন দেশটির ক্ষমতাসীন রাজনৈতিক শক্তির প্রধান রবি লামিছানে। মঙ্গলবার শুরু হওয়া এই সফরে তিনি দুই প্রতিবেশী দেশের মধ্যে অর্থনৈতিক ও কৌশলগত সম্পর্ক আরও গভীর করার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন।
নয়াদিল্লি থেকে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, সফরটি নেপালের নতুন রাজনৈতিক বাস্তবতায় বিশেষ তাৎপর্য বহন করছে। তবে আলোচনায় থাকা এই সফরে অংশ নেননি প্রধানমন্ত্রী বালেন্দ্র শাহ। দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই তিনি আন্তর্জাতিক সফর ও কূটনৈতিক আনুষ্ঠানিকতায় সীমিত উপস্থিতি বজায় রেখেছেন।
প্রধানমন্ত্রীর ঘনিষ্ঠ সূত্রগুলো জানিয়েছে, দেশের অর্থনীতি, কর্মসংস্থান ও প্রশাসনিক সংস্কারকে অগ্রাধিকার দিতে ক্ষমতার প্রথম বছরে বিদেশ সফর থেকে দূরে থাকার নীতি অনুসরণ করছেন তিনি।
অন্যদিকে, রাষ্ট্রীয় স্বতন্ত্র পার্টির সভাপতি রবি লামিছানে বর্তমানে নেপালের রাজনীতিতে অন্যতম প্রভাবশালী ব্যক্তিত্ব হিসেবে বিবেচিত হচ্ছেন। সাবেক উপপ্রধানমন্ত্রী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করা এই নেতা ভারতের শীর্ষ পর্যায়ের নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করতে পারেন বলে জানা গেছে।
গত মার্চের নির্বাচনে বালেন্দ্র শাহের নেতৃত্বে রাষ্ট্রীয় স্বতন্ত্র পার্টি বড় ধরনের বিজয় অর্জন করে সরকার গঠন করে। এরপর থেকেই দেশটির রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন নেতৃত্বের উত্থান নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলেও আলোচনা চলছে।
ভূগোলগতভাবে ভারত ও চীনের মাঝখানে অবস্থিত নেপালকে দীর্ঘদিন ধরেই দুই আঞ্চলিক শক্তির মধ্যে ভারসাম্য রক্ষা করে চলতে হয়। ভারত নেপালকে ঐতিহাসিক ও সাংস্কৃতিকভাবে ঘনিষ্ঠ প্রতিবেশী হিসেবে দেখে থাকে। দুই দেশের মধ্যে উন্মুক্ত সীমান্ত এবং বিস্তৃত জনগোষ্ঠীগত যোগাযোগ রয়েছে।
বিশ্বব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, নেপালের সবচেয়ে বড় বাণিজ্যিক অংশীদার ভারত। দেশটির মোট আমদানির প্রায় ৬৩ শতাংশ ভারত থেকে আসে। চীন রয়েছে দ্বিতীয় অবস্থানে, যার অংশ প্রায় ১৩ শতাংশ।
ভারতের একটি প্রভাবশালী দৈনিকে প্রকাশিত নিবন্ধে রবি লামিছানে লিখেছেন, একটি স্থিতিশীল ও সমৃদ্ধ নেপাল ভারতের উত্তরাঞ্চলের নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতার জন্য গুরুত্বপূর্ণ। একই সঙ্গে তিনি নেপালের অর্থনৈতিক অগ্রগতিকে ভারতের কৌশলগত স্বার্থের সঙ্গেও সম্পর্কিত বলে উল্লেখ করেন।
এদিকে সফরের সময় আবারও আলোচনায় এসেছে ভারত-নেপাল-চীন সীমান্তসংলগ্ন লিপুলেখ গিরিপথ। বহুদিন ধরে এই অঞ্চলকে কেন্দ্র করে দুই দেশের মধ্যে মতপার্থক্য বিদ্যমান। ২০২০ সালে ভারত সেখানে নতুন সড়ক চালু করার পর নেপালে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছিল।
সম্প্রতি নেপালের সংসদে দেওয়া বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী বালেন্দ্র শাহ সীমান্ত ইস্যুতে দুই দেশের মধ্যে বিদ্যমান বিরোধ আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের আহ্বান জানিয়েছেন। তবে তার ওই মন্তব্য দেশটির রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন বিতর্কেরও জন্ম দিয়েছে।

কী-ওয়ার্ডস: নেপাল,ভারত,কূটনীতি