মহেশখালী (কক্সবাজার)
একসময় আধিপত্য বিস্তার, খুন, সন্ত্রাস, চুরি, ছিনতাই, মাদক বাণিজ্য ও জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধের কারণে আতঙ্কের জনপদ হিসেবে পরিচিত ছিল মহেশখালী উপজেলার কালারমারছড়া ইউনিয়ন।
দীর্ঘদিন ধরে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগে থাকা এলাকার বাসিন্দারা এখন পরিবর্তনের আভাস দেখতে পাচ্ছেন। স্থানীয়দের দাবি, সম্প্রতি পুলিশি তৎপরতা বৃদ্ধি পাওয়ায় অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড কমেছে এবং সাধারণ মানুষের মধ্যে নিরাপত্তাবোধ ফিরে আসতে শুরু করেছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে,গত ২৫ মে কালারমারছড়া পুলিশ বিটের ইনচার্জ হিসেবে এসআই রাজু আহমদ গাজী দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকে এলাকায় নিয়মিত টহল, গোয়েন্দা নজরদারি এবং বিশেষ অভিযান জোরদার করা হয়েছে।
এর ফলে ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি গ্রেপ্তার,পলাতক অপরাধীদের শনাক্তকরণ এবং বিভিন্ন অভিযোগ দ্রুত নিষ্পত্তির কার্যক্রম দৃশ্যমান হয়েছে বলে জানান স্থানীয়রা।
সম্প্রতি কালারমারছড়ার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা যায়, পূর্বের তুলনায় জনসাধারণের মধ্যে স্বাভাবিক চলাচল বেড়েছে।
স্থানীয় বাজার,গুরুত্বপূর্ণ সড়ক এবং জনসমাগমস্থল গুলোতে মানুষের উপস্থিতি আগের তুলনায় বেশি লক্ষ্য করা গেছে।
সন্ধ্যার পরও অনেককে নির্ভয়ে চলাফেরা করতে দেখা যায়।
স্থানীয় বাসিন্দা মোহাম্মদ নুরুল ইসলাম বলেন-“একসময় সন্ধ্যার পর ঘর থেকে বের হতে মানুষ ভয়
পেত। বিভিন্ন ধরনের অপরাধ ও সংঘর্ষের আশঙ্কা সবসময় কাজ করত। এখন পুলিশের টহল বাড়ার
কারণে পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হয়েছে বলে মনে হচ্ছে।”
আরেক বাসিন্দা আবদুর রহিম জানান, “অতীতে এলাকায় প্রায়ই সংঘর্ষ, হামলা ও অপরাধের ঘটনা ঘটত। বর্তমানে জনবান্ধব পুলিশের উপস্থিতি চোখে পড়ছে। এতে সাধারণ মানুষের মধ্যে আস্থা তৈরি হচ্ছে।”
স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও সচেতন মহলের কয়েকজন সদস্য বলেন-আইনশৃঙ্খলা রক্ষার পাশাপাশি জনগণের সঙ্গে পুলিশের যোগাযোগ বৃদ্ধি এবং স্থানীয় বিরোধ দ্রুত নিষ্পত্তির উদ্যোগ ইতিবাচক ফল দিচ্ছে।
বিশেষ করে জমিজমা ও পারিবারিক বিরোধের মতো বিষয়গুলোতে পুলিশ দ্রুত হস্তক্ষেপ করে সমাধানের চেষ্টা করছে।
তাদের মতে,শুধু অভিযান পরিচালনা নয়,জনবান্ধব পুলিশিং কার্যক্রমও এলাকার পরিস্থিতি উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।
জনগণের অভিযোগ দ্রুত শোনা এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার কারণে পুলিশের প্রতি মানুষের আস্থা বাড়ছে।
২০২৪ ইং জুলাই যোদ্ধা শহীদ তানবীর সিদ্দিকী স্মৃতি ফাউন্ডেশনের উপদেষ্টা ও সাবেক ছাত্রনেতা মিজানুর রহমান মাতব্বর জানিয়েছেন, এসআই রাজু আহমদ গাজী আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে বিট পুলিশে ইনচার্জ হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে ইউপি চেয়ারম্যান ও আওয়ামী লীগ নেতা তারেক বিন ওসমান শরিফকে একটি মামলায় গ্রেপ্তার করেছিলেন।
তিনি বলেন, দায়িত্ব পালনের সময় এসআই রাজু আহমদ গাজী রাজনৈতিক পরিচয়ের চেয়ে আইনি প্রক্রিয়াকে অগ্রাধিকার দিতেন এবং সন্ত্রাস ও অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান বজায় রাখতেন।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকে সাহসী পুলিশ অফিসার এসআই রাজু আহমদ গাজীর নেতৃত্বে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়নে ধারাবাহিক কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।
নিয়মিত টহলের পাশাপাশি অপরাধপ্রবণ স্থানগুলোতে বিশেষ নজরদারি চালানো হচ্ছে। এছাড়া অপরাধীদের গতিবিধি পর্যবেক্ষণ এবং তথ্যভিত্তিক অভিযান পরিচালনা অব্যাহত রয়েছে।
কালারমারছড়া পুলিশ বিটের একটি সূত্র জানায়,অপরাধ নিয়ন্ত্রণ ও জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে
স্থানীয় জনগণের সহযোগিতা নিয়ে কাজ করছে পুলিশ।
তথ্য আদান-প্রদান এবং জনসম্পৃক্ততা বৃদ্ধির মাধ্যমে অপরাধ প্রতিরোধে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।
এ বিষয়ে এসআই রাজু আহমদ গাজী বলেন,“আইনশৃঙ্খলা রক্ষা, জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং অপরাধীদের আইনের আওতায় আনা আমাদের প্রধান দায়িত্ব। আমরা স্থানীয় জনগণের সহযোগিতা নিয়ে সেই লক্ষ্যেই কাজ করছি।অপরাধ দমনে কোনো ধরনের ছাড় দেওয়া হবে না।”
তবে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির স্থায়ী উন্নয়ন মূল্যায়নের জন্য আরও সময় প্রয়োজন। তাদের মতে,চলমান অভিযান,জনসম্পৃক্ত পুলিশিং কার্যক্রম এবং প্রশাসনের নজরদারি অব্যাহত থাকলে কালারমারছড়ায় শান্তি,স্থিতিশীলতা ও নিরাপত্তা আরও সুদৃঢ় হবে।
স্থানীয়দের প্রত্যাশা, সাম্প্রতিক ইতিবাচক পরিবর্তনের ধারা অব্যাহত থাকলে একসময় অপরাধপ্রবণ হিসেবে পরিচিত কালারমারছড়া ধীরে ধীরে একটি শান্তিপূর্ণ ও নিরাপদ জনপদে পরিণত হবে।