লেবাননে জাতিসংঘ শান্তিরক্ষী মিশন বহালের পক্ষে গুতেরেস, আপত্তি জানাতে পারে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইল

  • আন্তর্জাতিক ডেস্ক
  • ২০২৬-০৬-০২ ১১:১৪:২৪
image

লেবাননের দক্ষিণাঞ্চলে চলমান নিরাপত্তা সংকট ও সীমান্ত উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে দেশটিতে জাতিসংঘের শান্তিরক্ষী বাহিনীর উপস্থিতি অব্যাহত রাখার প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দিয়েছেন জাতিসংঘ মহাসচিব 
এন্তোনিও গুতেরেস। তবে এ উদ্যোগের বিরোধিতা করতে পারে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল।
বার্তা সংস্থা এএফপির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত বছর নিরাপত্তা পরিষদের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী লেবাননে জাতিসংঘের অন্তর্বর্তীকালীন শান্তিরক্ষা বাহিনী ইউনিফিলের বর্তমান ম্যান্ডেট ২০২৬ সালের ৩১ ডিসেম্বর শেষ হওয়ার কথা। সেই প্রেক্ষাপটে ভবিষ্যৎ ব্যবস্থা নিয়ে সুপারিশ দিতে মহাসচিবকে অনুরোধ করা হয়েছিল।
নিরাপত্তা পরিষদে জমা দেওয়া প্রতিবেদনে গুতেরেস তিনটি বিকল্প পরিকল্পনা তুলে ধরেছেন। এসব প্রস্তাবে যুদ্ধবিরতি পর্যবেক্ষণ, সীমান্ত পরিস্থিতি নজরদারি এবং লেবাননের সশস্ত্র বাহিনীকে সহায়তার জন্য প্রায় দুই হাজার থেকে সাড়ে পাঁচ হাজারের বেশি শান্তিরক্ষী সদস্য মোতায়েন রাখার কথা বলা হয়েছে।
প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, উত্তেজনা কমানো, পক্ষগুলোর মধ্যে যোগাযোগ ও সমন্বয় বৃদ্ধি এবং দীর্ঘমেয়াদি স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করতে আন্তর্জাতিক উপস্থিতি এখনো গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে লেবানন-ইসরাইল সীমান্তবর্তী প্রায় ১২০ কিলোমিটার দীর্ঘ ‘ব্লু লাইন’ এলাকায় পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে জাতিসংঘের ভূমিকা অপরিহার্য বলে মত দেওয়া হয়েছে।
বর্তমানে দক্ষিণ লেবাননের কয়েকটি এলাকায় ইসরাইলি বাহিনীর অবস্থান এবং সীমান্তে অব্যাহত সংঘাতের কারণে শান্তিরক্ষী বাহিনী প্রত্যাহার নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। একই সময়ে দুই দেশের মধ্যে উত্তেজনা কমাতে প্রত্যক্ষ আলোচনা চলমান রয়েছে।
বর্তমানে ইউনিফিলে প্রায় ৫০টি দেশের সাড়ে সাত হাজারের বেশি শান্তিরক্ষী সদস্য দায়িত্ব পালন করছেন। ১৯৭৮ সাল থেকে এই মিশন লেবানন ও ইসরাইলের মধ্যে সংঘাত নিয়ন্ত্রণ ও শান্তি রক্ষায় কাজ করে আসছে।
লেবাননের সরকারও শান্তিরক্ষী বাহিনীর উপস্থিতি বজায় রাখার পক্ষে অবস্থান নিয়েছে। জাতিসংঘে লেবাননের রাষ্ট্রদূত আহমদ আরাফা বলেছেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে আন্তর্জাতিক সহায়তা আগের যেকোনো সময়ের তুলনায় বেশি প্রয়োজন। তার মতে, ইসরাইলি সেনা প্রত্যাহার নিশ্চিত করা এবং পুরো দেশে রাষ্ট্রীয় কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে জাতিসংঘের সহায়তা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
অন্যদিকে, জাতিসংঘে চীনের প্রতিনিধি ফু কং নিরাপত্তা পরিষদকে এমন সিদ্ধান্ত নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন, যাতে লেবাননে কোনো নিরাপত্তা শূন্যতা সৃষ্টি না হয়।
তবে ইউনিফিলের বর্তমান কাঠামো অবসানের পক্ষে আগে থেকেই অবস্থান নিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল। ফলে শান্তিরক্ষী মিশনের ভবিষ্যৎ নিয়ে নিরাপত্তা পরিষদে নতুন করে কূটনৈতিক আলোচনা ও মতপার্থক্য দেখা দেওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।

কী-ওয়ার্ডস: ইউনিফিল,লেবানন সংকট,জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা বাহিনী