লেবানন ইস্যুতে নেতানিয়াহুর ওপর ক্ষুব্ধ ট্রাম্প, বৈরুত হামলা নিয়ে বাড়ছে মতবিরোধ

  • আন্তর্জাতিক ডেস্ক
  • ২০২৬-০৬-০২ ১০:১৪:৫৪
image

লেবাননে ইসরায়েলের সামরিক তৎপরতা এবং বৈরুতে সম্ভাব্য বড় ধরনের হামলার পরিকল্পনা ঘিরে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের শীর্ষ নেতৃত্বের মধ্যে নতুন করে উত্তেজনা দেখা দিয়েছে। মার্কিন সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এ নিয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু-এর মধ্যে এক তীব্র ফোনালাপ হয়েছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, ট্রাম্প ফোনালাপে নেতানিয়াহুর প্রতি অসন্তোষ প্রকাশ করে সতর্ক করেন যে বৈরুতে বড় আকারের হামলা চালানো হলে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ইসরায়েল আরও চাপের মুখে পড়তে পারে। মার্কিন কর্মকর্তাদের বরাতে বলা হয়েছে, লেবাননে চলমান সামরিক অভিযান আঞ্চলিক অস্থিতিশীলতা বাড়ানোর পাশাপাশি ওয়াশিংটনের কূটনৈতিক প্রচেষ্টাকেও জটিল করে তুলছে বলে মনে করছেন তিনি। 
এ সময় ইরান-যুক্তরাষ্ট্র চলমান আলোচনার বিষয়টিও গুরুত্ব পায়। মার্কিন সূত্রগুলোর দাবি, লেবাননে হামলা অব্যাহত থাকলে তেহরান আলোচনার প্রক্রিয়া থেকে সরে আসার ইঙ্গিত দেওয়ার পরই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নেতানিয়াহুর সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ করেন ট্রাম্প।
মার্কিন প্রশাসনের কয়েকজন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, হিজবুল্লাহর লক্ষ্যবস্তুতে হামলার সময় ব্যাপক বেসামরিক ক্ষয়ক্ষতি ও ভবন ধ্বংসের ঘটনায়ও ট্রাম্প উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তাঁর মতে, অতিরিক্ত সামরিক প্রতিক্রিয়া পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলতে পারে।
ফোনালাপের পর ট্রাম্প দাবি করেন, তাঁর মধ্যস্থতায় ইসরায়েল ও হিজবুল্লাহ সাময়িকভাবে হামলা কমানোর বিষয়ে ইতিবাচক অবস্থানে এসেছে। একই সঙ্গে ইরানের সঙ্গে আলোচনা দ্রুত অগ্রসর হচ্ছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
লেবাননের রাজনৈতিক সূত্রগুলো জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের প্রস্তাবের ভিত্তিতে বৈরুতের ওপর সম্ভাব্য হামলা স্থগিত রাখার বিনিময়ে হিজবুল্লাহও নতুন হামলা থেকে বিরত থাকার বিষয়ে আগ্রহ দেখিয়েছে। এ উদ্যোগকে বৃহত্তর আঞ্চলিক উত্তেজনা কমানোর প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
তবে নেতানিয়াহু স্পষ্ট করে জানিয়েছেন, হিজবুল্লাহর হামলা অব্যাহত থাকলে ইসরায়েল প্রয়োজনীয় সামরিক পদক্ষেপ নিতে পিছপা হবে না। দক্ষিণ লেবাননে সামরিক অভিযানও পরিকল্পনা অনুযায়ী চলবে বলে তিনি জানিয়েছেন।
এদিকে কয়েকটি আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের চাপের মুখে বৈরুতকে লক্ষ্য করে পরিকল্পিত বড় ধরনের হামলা আপাতত স্থগিত করা হয়েছে। যদিও এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে ইসরায়েল পূর্ণাঙ্গ কোনো ঘোষণা দেয়নি।
বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক এই ঘটনাপ্রবাহ মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতি, ইরান-যুক্তরাষ্ট্র আলোচনা এবং লেবানন সংকটকে নতুন মোড়ে নিয়ে যেতে পারে। একই সঙ্গে ওয়াশিংটন ও তেল আবিবের মধ্যে কৌশলগত মতপার্থক্যও আরও স্পষ্ট হয়ে উঠছে।

কী-ওয়ার্ডস: ট্রাম্প নেতানিয়াহু,লেবানন সংকট,বৈরুত হামলা