নৌ-অস্ত্র চুক্তি নিয়ে নরওয়ের সিদ্ধান্তে মালয়েশিয়ার ক্ষোভ,আন্তর্জাতিক নীরবতায় প্রশ্ন

  • আন্তর্জাতিক ডেস্ক
  • ২০২৬-০৫-৩১ ২০:১৩:৪৩
image

নৌবাহিনীর জন্য নির্ধারিত ক্ষেপণাস্ত্র-সংক্রান্ত একটি চুক্তি কার্যত ভেস্তে যাওয়ার ঘটনায় নরওয়ের বিরুদ্ধে কড়া প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে মালয়েশিয়া। একই সঙ্গে বিষয়টি নিয়ে প্রভাবশালী রাষ্ট্রগুলোর নীরব ভূমিকাকেও তীব্রভাবে সমালোচনা করেছে দেশটি।
রোববার সিঙ্গাপুরে অনুষ্ঠিত একটি আন্তর্জাতিক প্রতিরক্ষা সম্মেলনে মালয়েশিয়ার প্রতিরক্ষামন্ত্রী মোহাম্মদ খালেদ নর্দিন বলেন, নরওয়ের একতরফা সিদ্ধান্তের পরও আন্তর্জাতিক অঙ্গনে উল্লেখযোগ্য কোনো প্রতিক্রিয়া দেখা যায়নি। তাঁর মতে, এমন নীরবতা আন্তর্জাতিক চুক্তি, দায়বদ্ধতা ও পারস্পরিক আস্থার প্রশ্নে উদ্বেগজনক বার্তা বহন করছে।
সম্প্রতি নরওয়ে নির্দিষ্ট কিছু সামরিক প্রযুক্তি রপ্তানির অনুমোদন বাতিল করলে দুই দেশের মধ্যে কূটনৈতিক টানাপোড়েন শুরু হয়। তবে অসলো দাবি করেছে, সিদ্ধান্তটি কোনো নির্দিষ্ট দেশকে লক্ষ্য করে নেওয়া হয়নি; বরং তাদের নিজস্ব রপ্তানি নিয়ন্ত্রণ নীতির অংশ হিসেবেই এ পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে।
অন্যদিকে মালয়েশিয়া মনে করছে, এই সিদ্ধান্তের ফলে তাদের প্রতিরক্ষা সক্ষমতা ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। কুয়ালালামপুর ইতোমধ্যে সংশ্লিষ্ট নরওয়েজীয় প্রতিষ্ঠানের কাছে প্রায় ২৫ কোটি মার্কিন ডলারেরও বেশি ক্ষতিপূরণ দাবি করেছে।
মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম নরওয়ের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সরাসরি আলাপ করে এ বিষয়ে আপত্তি জানিয়েছেন। তিনি সতর্ক করে বলেন, এই সিদ্ধান্ত দেশের নৌবাহিনীর প্রস্তুতি এবং চলমান যুদ্ধজাহাজ আধুনিকায়ন কর্মসূচির ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।
বিশেষ করে উপকূলীয় যুদ্ধজাহাজ প্রকল্পকে ঘিরে নতুন অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। এক দশকের বেশি সময় আগে শুরু হওয়া এই কর্মসূচি নানা জটিলতা, ব্যয় বৃদ্ধি ও প্রশাসনিক সমস্যার কারণে বহুবার আলোচনায় এসেছে। পরে পুনর্গঠনের মাধ্যমে প্রকল্পটি আবার চালু করা হলেও নির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী অগ্রগতি হয়নি।
সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে, প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম সরবরাহে বিলম্ব এবং পুনর্বিন্যাস কার্যক্রমের কারণে প্রথম যুদ্ধজাহাজ হস্তান্তরের সময়ও পিছিয়ে গেছে। ফলে প্রতিরক্ষা খাতে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা বাস্তবায়ন নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, এই বিরোধ শুধু একটি বাণিজ্যিক বা সামরিক চুক্তির বিষয় নয়; বরং আন্তর্জাতিক প্রতিরক্ষা সহযোগিতা, সরবরাহ নির্ভরতা এবং চুক্তি বাস্তবায়নে আস্থার প্রশ্নকেও সামনে নিয়ে এসেছে।

কী-ওয়ার্ডস: মালয়েশিয়া,নরওয়ে,প্রতিরক্ষা চুক্তি