আমি খুব বেশি শিক্ষিত নই
তবে ছোটো থেকে গভীর মনোযোগী শিক্ষানবিশের মতো কিছু পার্থক্য শিখেছি
শিখেছি সামঞ্জস্যহীন মানুষের থেকে একটু দূরে দূরে থাকা ভালো
কখনো মানসিকভাবে, কখনোবা শারীরিকভাবে,
আমাদের বাগানে যে মালি কাজ করতে আসতো তার সঙ্গেও আমাদের বিস্তর ফারাক ছিল
আমরা একই ধর্মের মানুষ হওয়া হলেও মাঝখানে ছিল চীনের প্রাচীরের মত অর্থনৈতিক ব্যবধান
তাই প্রাণ খুলে কথা বলা আমাদের প্রায় বারণ ছিল বলা যায়
চলতে ফিরতে হাত ধরেও মনের দূরত্ব বজায় রাখতে হয়েছে বহু আলোকবর্ষ দূরে।
পরিণত হয়ে আমি নিজেই নিজেকে শিখিয়েছি
আমার মধ্যে প্রবলভাবে জেগে উঠেছে ধর্ম বোধ
কথার পিঠে অকাট্য যুক্তি বসিয়েছে
স্বধর্মের উপদেশ বিশ্বাস করেছি প্রাণপণে
বিপরীত ধর্মের দিকে আগ্নেয়গিরির লাভার মতো ক্রোধ ছুঁড়ে দিয়েছি
তর্কে নিজেকে রেখেছি ধ্রুবতারার স্থানে,
পরজন্মের কথা চিন্তা করে করে ধর্ম কর্মে সময় অতিবাহিত করেছি
দিনের বিশেষ বিশেষ সময় আমি আর আমার ধর্ম আয়নার মতো মুখোমুখি বসেছি,
প্রতিচ্ছবি মিশেছে এক বিন্দুতে
দেখতে দেখতে অপরিসীম ভালোবেসেছি।
অবশেষে একদিন শীর্ণদেহে আমাদের বাঁধন আলগা হয়েছে
আমার সারা জীবনের লড়াই হার মানতে বসেছে
ডাক্তারবাবু জবাব দিয়েছেন আর বেশি সময় নেই হাতে
'যাবার সময় হয়েছে বিহঙ্গের'
শোনামাত্র কর্ণকুহরে দহন শুরু হল
মন আর শরীরের মধ্যে শুরু হল প্রবল টানাটানি
কিছুতেই আমার যেতে ইচ্ছা করছে না,
কি আশ্চর্য! যেই অদৃশ্য পরপারে ভালো থাকার জন্য আজীবন উজাড় করলাম
আজ সেখানে যেতে ইচ্ছে করছে না,
ইচ্ছে করছে এই মানুষগুলোর মধ্যে আরো কিছুদিন থাকতে
ওদের সঙ্গে একাত্ম হয়ে আলো মাখতে
ওদের শ্বাসে প্রশ্বাস মেশাতে
তবে এতদিন কি করলাম!
কেন করলাম?
উত্তেজনায় ঠোঁট ফাঁক হল
মুখ থেকে অস্ফুট উচ্চারণে বেরোলো
যাহ্ শালা!