রাজধানীর পল্লবীতে আট বছর বয়সী শিশু রামিসা আক্তারকে ধর্ষণের পর নির্মমভাবে গলা কেটে হত্যার ঘটনায় গভীর উদ্বেগ, ক্ষোভ ও তীব্র নিন্দা জানিয়ে ২৩ মে শনিবার সকালে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে চাঁদের কণা (জাতীয় শিশু-কিশোর সংস্থা) এবং ইন্টারন্যাশনাল হিউম্যান রাইট্স সোসাইট, বাংলাদেশ চ্যাপ্টারের যৌথ উদ্যোগে শিশু রামিসা ধর্ষণ ও হত্যার প্রতিবাদে, খুনীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে মানববন্ধ অনুষ্ঠিত হয়। মানববন্ধনে সভাপতিত্ব করে এটিএম মমতাজুল করিম। বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ জাতীয় মানবাধিকার সমিতির চেয়ারম্যান ও ইন্টারন্যাশনাল হিউম্যান রাইট্স সোসাইটির যুগ্ম মহাসচিব মোঃ মঞ্জুর হোসেন ঈসা। তিনি বলেন নিষ্পাপ শিশু রামিসার ওপর যে পাশবিক নির্যাতন চালানো হয়েছে, তা পুরো জাতিকে স্তম্ভিত করেছে। এমন নৃশংস অপরাধের সঙ্গে জড়িতদের অনতিবিলম্বে সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে। দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালের মাধ্যমে বিচার কার্যক্রম সম্পন্ন করে দোষীদের ফাঁসি কার্যকর করতে হবে, যাতে ভবিষ্যতে কেউ এ ধরনের জঘন্য অপরাধ করার সাহস না পায়।
তিনি আরও বলেন, বর্তমানে দেশে শিশু ধর্ষণ, হত্যা, মাদক ও সামাজিক অপরাধ উদ্বেগজনকভাবে বৃদ্ধি পাচ্ছে। অনেক ক্ষেত্রে বিচার দীর্ঘসূত্রিতার কারণে অপরাধীরা আইনের ফাঁকফোকর ব্যবহার করে পার পেয়ে যাচ্ছে। ফলে সমাজে অপরাধপ্রবণতা আরও বেড়ে যাচ্ছে। তাই শিশু ধর্ষণ ও হত্যার মতো অপরাধের ক্ষেত্রে বিশেষ ট্রাইব্যুনাল গঠন, দ্রুত বিচার এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে কঠোর আইন প্রয়োগ ও প্রয়োজন হলে নতুন আইন প্রণয়নের দাবি জানায় সংগঠনটি।
সভাপতি তার বক্তব্যে বলেন, সমাজে মাদকের ভয়াবহ বিস্তার শিশু ও নারী নির্যাতন বৃদ্ধির অন্যতম কারণ। মাদকাসক্ত ও অপরাধচক্রের বিরুদ্ধে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে আরও কঠোর ও সক্রিয় ভূমিকা পালন করতে হবে। এলাকায় এলাকায় মাদক ব্যবসায়ী, সন্ত্রাসী ও অপরাধীদের তালিকা তৈরি করে নিয়মিত অভিযান পরিচালনার আহ্বান জানানো হয়। পাশাপাশি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, পরিবার ও সামাজিক সংগঠনগুলোর সমন্বিত সচেতনতামূলক কার্যক্রম জোরদারের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।
সংগঠনের অন্যান্য নেতৃবৃন্দরা বলেন, শুধু শাস্তি দিলেই হবে না; ভবিষ্যতে এ ধরনের অপরাধ নির্মূলে দীর্ঘমেয়াদি কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে। প্রতিটি এলাকায় শিশু নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার, সিসিটিভি নজরদারি বৃদ্ধি, কমিউনিটি পুলিশিং শক্তিশালীকরণ, স্কুলভিত্তিক সচেতনতামূলক শিক্ষা এবং শিশুদের মানসিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকারকে বাস্তবভিত্তিক পদক্ষেপ নিতে হবে।