বিচার বিভাগের স্বাধীনতা ঘিরে নতুন টানাপোড়েন

  • সকালের আলো প্রতিবেদক
  • ২০২৬-০৫-২১ ১১:৫৮:০৯
image

সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় বিলুপ্তির সিদ্ধান্ত ঘিরে নতুন করে সাংবিধানিক ও বিচার প্রশাসনিক বিতর্ক তৈরি হয়েছে। পৃথক সচিবালয় প্রতিষ্ঠায় হাইকোর্টের ঐতিহাসিক রায়ের বিরুদ্ধে এবার আপিল করেছে রাষ্ট্রপক্ষ। এর মধ্য দিয়ে বিচার বিভাগের স্বাধীনতা, নির্বাহী বিভাগের ভূমিকা এবং সংবিধানের ব্যাখ্যা নিয়ে আবারও আলোচনায় এসেছে দেশের সর্বোচ্চ আদালত।
বৃহস্পতিবার সুপ্রিম কোর্টের সংশ্লিষ্ট শাখায় রাষ্ট্রপক্ষের করা আপিল দায়ের করা হয়। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন অ্যাটর্নি জেনারেল ব্যারিস্টার রুহুল কুদ্দুস কাজল।
এর আগে গত বছরের ২ সেপ্টেম্বর বিচারপতি আহমেদ সোহেল ও বিচারপতি দেবাশীষ রায় চৌধুরীর সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এক রিটের রায়ে সংবিধানের বর্তমান ১১৬ অনুচ্ছেদকে সংবিধানের মৌলিক চেতনার সঙ্গে সাংঘর্ষিক ঘোষণা করেন। একইসঙ্গে ১৯৭২ সালের মূল সংবিধানের ১১৬ অনুচ্ছেদ পুনর্বহালের নির্দেশ দেন আদালত।
রায়ে তিন মাসের মধ্যে সুপ্রিম কোর্টের জন্য পৃথক ও স্বাধীন সচিবালয় প্রতিষ্ঠার নির্দেশও দেওয়া হয়। পরবর্তীতে অন্তর্বর্তী সরকার ‘সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় অধ্যাদেশ, ২০২৫’ জারি করে বিচার বিভাগকে প্রশাসনিকভাবে নির্বাহী বিভাগ থেকে আরও পৃথক করার উদ্যোগ নেয়।
তবে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিএনপি নেতৃত্বাধীন সরকার সেই অধ্যাদেশ বাতিল করে দেয়। গত ১৯ মে জারি করা এক প্রজ্ঞাপনে সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় বিলুপ্ত ঘোষণা করা হয়। একইসঙ্গে সদ্য গঠিত সচিবালয়ের সিনিয়র সচিবসহ ১৫ জন কর্মকর্তাকে পুনরায় আইন মন্ত্রণালয়ে সংযুক্ত করা হয়েছে।
আইন বিশ্লেষকদের মতে, এই আপিল শুধু একটি প্রশাসনিক কাঠামো নিয়ে নয়, বরং বিচার বিভাগের স্বাধীনতা কতটা প্রাতিষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত হবে, সেই প্রশ্নও সামনে নিয়ে এসেছে। সংবিধানের ১১৬ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী বিচারকদের নিয়ন্ত্রণ, শৃঙ্খলা ও প্রশাসনিক ব্যবস্থাপনায় রাষ্ট্রপতির কর্তৃত্ব বহাল থাকলেও হাইকোর্টের রায়ে বিচার বিভাগের পূর্ণ স্বাধীনতার প্রশ্নকে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছিল।
এদিকে রাষ্ট্রপক্ষের আপিলের ফলে বিষয়টি এখন আপিল বিভাগের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের অপেক্ষায়। দেশের বিচার প্রশাসনের ভবিষ্যৎ কাঠামো নির্ধারণে এই মামলাটি গুরুত্বপূর্ণ নজির হয়ে উঠতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

কীওয়ার্ডস: বিচার বিভাগ, সুপ্রিম কোর্ট, সাংবিধানিক আপিল