রাত ছিল নিস্তব্ধ,অথচ আকাশে
লোহার পাখিরা লিখছিল মৃত্যুর ভাষা।
মস্কোর জানালায় কাঁপছিল কাচ,
কেউ সন্তান আঁকড়ে বলছিল-
আজও কি ভোর হবে?
দূর ইউক্রেনের ক্লান্ত শহরে
একটি মা তখনো ছেলের ছবি বুকে রেখে
ধোঁয়ার ভেতর খুঁজছিল মানবতার ঠিকানা।
যুদ্ধ এখন আর সীমান্ত বোঝে না,
এটা মানুষের ঘুমের ভেতর ঢুকে পড়ে।
ড্রোনগুলো আর শুধু যন্ত্র নয়,
ওগুলো এখন ভয়, প্রতিশোধ,
রাষ্ট্রের অহংকার আর ক্ষমতার উন্মাদনা।
একটি বোতাম চাপলেই
হাজারো পরিবারের ইতিহাস বদলে যায়।
মস্কোর আকাশে যখন বিস্ফোরণ,
কিয়েভের শিশুরাও তখন চমকে ওঠে।
কারণ যুদ্ধের কোনো পক্ষ নেই-
এখানে শুধু মৃত্যু জেতে,
আর মানুষ প্রতিদিন একটু একটু হারে।
একজন বৃদ্ধ বললেন-
তিনি দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের গল্প শুনেছিলেন বাবার কাছে,
ভাবতেন পৃথিবী বদলেছে।
আজ আবার সাইরেন শুনে বুঝলেন,
মানুষ প্রযুক্তিতে বড় হয়েছে,
মানবতায় নয়।
একটি ড্রোন ধ্বংসস্তূপ বানায় ঘর,
আরেকটি ড্রোন পুড়িয়ে দেয় ভবিষ্যৎ।
তবু নেতাদের ভাষণে থাকে কৌশল,
মানচিত্র, নিরাপত্তা, প্রতিরোধ-
শুধু থাকে না সেই শিশুটির কান্না
যে কালও স্কুলে যেতে চেয়েছিল।
এই পৃথিবী কি সত্যিই এত অসহায়?
যেখানে আলোচনার টেবিলের চেয়ে
অস্ত্রের বাজার বেশি শক্তিশালী?
যেখানে শান্তির কবুতর উড়ার আগেই
রাডারে ধরা পড়ে যায়?
তবু আমি বিশ্বাস করি-
কোনো এক ভোরে
মানুষ আবার যুদ্ধের চেয়ে মানুষকে বড় ভাববে।
ড্রোনের শব্দ থেমে যাবে,
কারখানাগুলো অস্ত্র নয়,স্বপ্ন বানাবে।
আর শিশুরা আকাশ দেখলে
বিস্ফোরণ নয়, মেঘ চিনবে।
সেদিন পৃথিবী সত্যিই সভ্য হবে।