ভূমিসেবায় প্রযুক্তির ছোঁয়া,নাগরিক ভোগান্তি কমানোর নতুন অঙ্গীকার

  • সকালের আলো প্রতিবেদক
  • ২০২৬-০৫-১৯ ১১:২৫:১৮
image

জনগণের দোরগোড়ায় সহজ, স্বচ্ছ ও প্রযুক্তিনির্ভর সেবা পৌঁছে দিতে দেশজুড়ে শুরু হয়েছে তিন দিনব্যাপী ‘ভূমিসেবা মেলা-২০২৬’। মঙ্গলবার রাজধানীর তেজগাঁওয়ে ভূমি ভবনে বেলা ১১টা ১৯ মিনিটে আনুষ্ঠানিকভাবে এ মেলার উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। উদ্বোধনের পর তিনি ভূমি মন্ত্রণালয়ের তিনটি নতুন প্রকাশনার মোড়ক উন্মোচন করেন এবং বিভিন্ন সেবা স্টল, কল সেন্টার, নাগরিক সেবা কেন্দ্র ও ডে-কেয়ার কেন্দ্র পরিদর্শন করেন।
এবারের মেলার প্রতিপাদ্য নির্ধারণ করা হয়েছে- “জনবান্ধব অটোমেটেড ভূমি ব্যবস্থাপনা, নিরাপদ ভূমি এবং সমৃদ্ধ ভবিষ্যৎ”। প্রতিপাদ্যের মধ্যেই বর্তমান সরকারের ভূমি ব্যবস্থাপনা সংস্কারের মূল দর্শন স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। দীর্ঘদিন ধরে দেশের মানুষ ভূমি সংক্রান্ত জটিলতা, দুর্নীতি, দালালচক্র, রেকর্ড জালিয়াতি এবং হয়রানির শিকার হয়ে আসছে। সেই বাস্তবতায় প্রযুক্তিনির্ভর ও স্বয়ংক্রিয় ভূমি ব্যবস্থাপনা এখন সময়ের সবচেয়ে বড় দাবি।
ভূমি মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, আজ থেকে আগামী ২১ মে পর্যন্ত দেশের প্রতিটি জেলা ও উপজেলায় একযোগে এ মেলা চলবে। সাধারণ মানুষকে ডিজিটাল ভূমিসেবা সম্পর্কে সচেতন করা, নতুন সেবাগুলোর সঙ্গে পরিচিত করা এবং সরাসরি সেবা প্রদানই এ আয়োজনের প্রধান উদ্দেশ্য।
বর্তমানে ভূমি উন্নয়ন কর প্রদান, খতিয়ান যাচাই, নামজারি আবেদন, মৌজা ম্যাপ সংগ্রহ, অনলাইন শুনানি ও ই-নথি ব্যবস্থাপনার মতো বেশ কিছু সেবা ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে নিয়ে আসা হয়েছে। এর ফলে একদিকে যেমন নাগরিক ভোগান্তি কমছে, অন্যদিকে দুর্নীতি ও অনিয়ম নিয়ন্ত্রণেও ইতিবাচক পরিবর্তন আসছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ভূমি ব্যবস্থাপনা একটি রাষ্ট্রের অর্থনীতি, কৃষি, নগরায়ণ এবং বিনিয়োগ কাঠামোর সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত। তাই এ খাতে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা গেলে দেশের সামগ্রিক উন্নয়ন প্রক্রিয়াও আরও গতিশীল হবে। বিশেষ করে গ্রামীণ জনগোষ্ঠীর জন্য সহজ ভূমিসেবা নিশ্চিত করা সামাজিক ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
মেলার মাধ্যমে মানুষ সরাসরি বিভিন্ন সেবা গ্রহণের পাশাপাশি অভিযোগ জানানো, প্রয়োজনীয় পরামর্শ পাওয়া এবং ডিজিটাল পদ্ধতিতে আবেদন করার সুযোগ পাচ্ছেন। এতে প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর মধ্যেও প্রযুক্তিভিত্তিক সেবার প্রতি আস্থা তৈরি হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
তবে শুধু মেলা আয়োজন করলেই হবে না, মাঠপর্যায়ে সেবার গতি ও মান নিশ্চিত করাই হবে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। অনলাইন সেবা ব্যবস্থাকে আরও নিরাপদ, সহজ ও জবাবদিহিমূলক করতে হবে। একইসঙ্গে ভূমি অফিসে দালালচক্র ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান বজায় রাখতে হবে।
ডিজিটাল বাংলাদেশ থেকে স্মার্ট বাংলাদেশ গড়ার পথে ভূমি ব্যবস্থাপনার আধুনিকায়ন একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ধাপ। ভূমিসেবা মেলা-২০২৬ সেই যাত্রায় নতুন সম্ভাবনার দুয়ার খুলে দিল বলেই মনে করছেন অনেকেই।

কি-ওয়ার্ড: ভূমিসেবা, ডিজিটাল ভূমি, স্মার্ট বাংলাদেশ