মস্কোর আকাশে আগুনের ঝড়,শত শত চালকবিহীন ড্রোনের হামলায় নিহত ৪

  • আন্তর্জাতিক ডেস্ক
  • ২০২৬-০৫-১৮ ১০:৪৩:১৮
image

রাশিয়ার রাজধানী মস্কো ও সীমান্তবর্তী বেলগোরোদ অঞ্চলে ইউক্রেনের ভয়াবহ চালকবিহীন ড্রোনের  হামলায় অন্তত চারজন নিহত হয়েছেন বলে দাবি করেছে মস্কো। আহত হয়েছেন আরও বেশ কয়েকজন। চলমান যুদ্ধের মধ্যে এটিকে ইউক্রেনের অন্যতম বৃহৎ আকাশ হামলা হিসেবে উল্লেখ করেছে রুশ কর্তৃপক্ষ।
রোববার রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানায়, রাতভর দেশটির বিভিন্ন অঞ্চলে মোট ৫৫৬টি চালকবিহীন ড্রোন ভূপাতিত করা হয়েছে। ভোরের পর আরও ৩০টি ড্রোন নিষ্ক্রিয় করা হয়। মস্কো অঞ্চল, ক্রিমিয়া উপদ্বীপ, কৃষ্ণ সাগর ও আজভ সাগরসহ ১৪টি অঞ্চলে এই হামলার প্রভাব পড়ে।
মস্কো অঞ্চলের গভর্নর আন্দ্রেই ভোরোবিয়ভ জানান,একটি ব্যক্তিগত বাড়িতে আঘাত হানলে এক নারী নিহত হন। ধ্বংসস্তূপের নিচে আরও একজন আটকা পড়েন। পরে আরও দুই পুরুষের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করা হয়। হামলায় অন্তত চারজন আহত হয়েছেন বলেও জানান তিনি।
রাত তিনটা থেকে রাজধানীজুড়ে বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সক্রিয় ছিল বলে জানায় রুশ প্রশাসন। রাজধানীতে ৮০টির বেশি চালকবিহীন ড্রোন ভূপাতিত করার দাবি করেছে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ। হামলায় আবাসিক ভবন, জ্বালানি স্থাপনা ও বিভিন্ন অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
মস্কোর মেয়র সের্গেই সোবিয়ানিন বলেন,একটি হামলায় তেল ও গ্যাস শোধনাগারের কাছে নির্মাণশ্রমিকরা আহত হয়েছেন। যদিও শোধনাগারের কার্যক্রম বন্ধ হয়নি, তবে তিনটি আবাসিক ভবন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
অন্যদিকে সীমান্তবর্তী বেলগোরোদ অঞ্চলের শেবেকিনো জেলায় একটি পণ্যবাহী যানবাহনে হামলায় একজন নিহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে স্থানীয় প্রশাসন।
এর একদিন আগে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি আরও পাল্টা হামলার ঘোষণা দিয়েছিলেন। কিয়েভে সাম্প্রতিক রুশ হামলায় ২৪ জন নিহত হওয়ার পর তিনি বলেন, রাশিয়ার সামরিক ও জ্বালানি স্থাপনাকে লক্ষ্যবস্তু করা ‘সম্পূর্ণ ন্যায্য’।
এদিকে ইউক্রেনের বিমান বাহিনী দাবি করেছে, রাশিয়ার ছোড়া ২৮৭টি চালকবিহীন ড্রোনের মধ্যে ২৭৯টিই প্রতিহত করা হয়েছে।
দীর্ঘদিনের এই যুদ্ধ ঘিরে কূটনৈতিক প্রচেষ্টা কার্যত অচল হয়ে পড়েছে। দনবাস অঞ্চল নিয়ে দুই পক্ষের অবস্থান কঠোর থাকায় শান্তি আলোচনা এগোচ্ছে না। যুদ্ধবিরতির মেয়াদ শেষ হওয়ার পর আবারও দুই দেশের মধ্যে পাল্টাপাল্টি হামলা তীব্র আকার নিয়েছে।

কী-ওয়ার্ড: মস্কো হামলা, রুশ যুদ্ধ, আকাশ সংঘাত