সা ফি না জ সু ল তা না

  • কেমন আছে অলিভিয়া- মামুন?
  • ২০২৩-০৯-১৩ ২৩:২৯:৫২
image

প্রতিবার ঈদ এলেই অলিভিয়া আর মামুনকে মনে পড়ে আমার। এবার লিখেই ফেললাম। সেই ছোটবেলার কথা। একবার ঈদের পরদিন সকালে ছোটমামা বাসায় এল। এসেই অবনী আর অনাকে ডাকল। বলল, অ্যাই তোরা কি বেড়াতে যেতে চাস? অবনী দ্বাদশ আর অনা ক্লাস নাইনে। দু'বোন আনন্দে লাফিয়ে বলল, অবশ্যই চাই। ঠিক আছে, তৈরি হয়ে নে। দু'বোন তৈরি হতে হতে শুনল, তারা গ্রামে ছোটমামার এক বন্ধুর বাসায় যাচ্ছে। ঠিক বন্ধু না, মামার বড় ভাইয়ের মত। মামাকে নিমন্ত্রণ করেছে। যেতেই হবে। ছোটমামার একা যেতে ইচ্ছে করছে না তাই তাদেরকে সঙ্গে নিয়ে যাওয়া।
তারা দুটো রিকশা নিল। ঘণ্টা তিনেকের পথ। সকালের মিষ্টি রোদ, ঝিরঝিরে হাওয়া আর রিকশার দুলুনিতে বেশ লাগছিল তাদের। মাঝে কাঁচা রাস্তায় নেমে এলে দু'বোন রিকশা থেকে নামল। দু'পাশে সবুজ ধানক্ষেত, স্যালো মেশিনের পানিতে কাকভেজা হয়ে আবার রিকশায় এসে বসল। পথের ধারে যত টং দোকান পড়েছে কোন না কোন বাহানায় নেমে পড়েছে। ফলের গাছে ঢিল পর্যন্ত ছুঁড়েছে ছোটটা। এসব করতে করতে বেলা বারোটায় এসে পৌঁছালো সেই বাড়িতে। স্বাগত জানালো হলো তাদের। গাছের আম, কাঁঠাল, মুড়ি পায়েস সামনে রাখা হলো। দুপুরের রান্না আগেই শুরু হয়েছে।
মামা বন্ধুর সঙ্গে কাজের আলাপ করছে। অনা আর অবনী ঘুরে ঘুরে দেখছে সব। গাছগাছালিতে ভরা। বাড়ির পেছনের দিকটায় হুহু বাতাস। একটা বড় পুকুরও আছে। কিন্তু সব ছাপিয়ে তাদের চোখ আটকে গেল অলিভিয়ার ওপর। এই বিদেশী মেয়েটা এখানে কি করছে? এই প্রশ্ন তাদের অস্থির করে তুলল। মেয়েটা একটা খয়েরি ছাপা সিল্ক শাড়ি পরা। পরা বললে ভুল হবে। শাড়িটা তার শরীরে প্যাঁচানো। কিন্তু তার ফর্সা রং, সোনালী চুল, সুন্দর মুখশ্রীতে খুব মানিয়েছে।
এই বাড়ির মেজ ছেলে মামুনের বউ হলো অলিভিয়া। এই ছেলে গ্রামের ব্রিলিয়ান্ট স্টুডেন্ট ছিল। বিদেশে পড়তে যেয়ে অলিভিয়ার বাবার বিরাট প্রতিষ্ঠানে কাজ করতে গিয়ে তার অলিভিয়ার সঙ্গে প্রেম। মাস ছয়েক আগে তাদের বিয়ে হয়েছে। শ্বশুরবাড়িতে এটাই অলিভিয়ার প্রথম ঈদ।
কিন্তু এই বাড়ির মানুষগুলোর মন এই ব্যাপারে ভালো নয়। তারা অলিভিয়ার অদ্ভুত কাণ্ডকারখানা দেখে মনে করছে, মামুনকে সোজা- সরল পেয়ে অলিভিয়ার বাবা মেয়েকে গছিয়ে দিয়েছে।
অলিভিয়া কারও কথা বুঝতে পারছে না।তার কথাও কেউ বুঝতে পারছে না। তাকে দিয়ে কোন সামাজিকতা করানো যাচ্ছে না। সে শুধু মামুনের সঙ্গে আঠার মত লেগে আছে। মামুনকে ছাড়া এক পাও ফেলছে না। 
অনা সারাক্ষণ অলিভিয়াকে ফলো করছে। অলিভিয়াও এটা বুঝতে পারছে। অনা আর অবনীর সামনে সে মামুনকে আসতে দিচ্ছে না। দু'বোনের সামনে সে বরের বাহু আরও শক্ত করে জড়িয়ে ধরছে।
দুপুর গড়িয়েছে। অনা খবর পেয়েছে অলিভিয়া পুকুরে গোসল করার বায়না ধরেছে। তার জন্য পানি তোলা হয়েছে কিন্তু সে পুকুরে গোসল করবে। অনা অবনীকে টানতে টানতে পুকুরের দিকে নিয়ে যায়। অবনী বলে, বাদ দে। এটা ঠিক হবে না। ওরা একসঙ্গে গোসল করবে। 
তারা একটু দূরে কলাগাছের আড়ালে দাঁড়িয়েছে। অবশ্য মামুন অলিভিয়া তাদের দেখেছে। লজ্জায় মামুন চোখ তুলতে পারছে না। এরপর দুই হাত দিয়ে মামুনকে ধরে কোমর পানিতে অলিভিয়া যেভাবে ডুব দেয়, দুই বোন হাসতে হাসতে.....
অনেক সময় পার হয়েছে। ভালোবাসা যদি মানুষকে বহুদূর নিয়ে যেতে পারে তাহলে বোধহয় ভালোবাসার একটা নিজস্ব পথ আছে, আলাদা ভাষা আছে। অলিভিয়া আর মামুন কি পেরেছে সেই পথ ধরে হাঁটতে?