গোপন বৈঠকের দাবি ঘিরে নতুন উত্তাপ,নেতানিয়াহুকে নিয়ে আমিরাত-ইরান মুখোমুখি

  • আন্তর্জাতিক ডেস্ক
  • ২০২৬-০৫-১৪ ১৪:২৬:২৭
image

ইরানের সঙ্গে চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতির মধ্যেই সংযুক্ত আরব আমিরাতে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু–এর কথিত গোপন সফর নিয়ে মধ্যপ্রাচ্যে নতুন কূটনৈতিক উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। নেতানিয়াহুর কার্যালয় দাবি করেছে, আমিরাতের প্রেসিডেন্ট শেখ মোহাম্মদ বিন জায়েদ–এর সঙ্গে তার বৈঠক হয়েছে এবং সেটি ছিল 'ঐতিহাসিক সাফল্য'।
তবে এই দাবি প্রকাশের কিছুক্ষণের মধ্যেই সংযুক্ত আরব আমিরাতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় তা সরাসরি অস্বীকার করে। দেশটির পক্ষ থেকে বলা হয়, নেতানিয়াহুর সফর সংক্রান্ত খবর “সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন”। একইসঙ্গে আমিরাত স্পষ্ট করে জানায়, ইসরায়েলের সঙ্গে তাদের সম্পর্ক কোনো গোপন বা অনানুষ্ঠানিক ব্যবস্থার ওপর নির্ভরশীল নয়।
আমিরাতের বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়, দুই দেশের সম্পর্ক প্রকাশ্য ও আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষিত আব্রাহাম চুক্তির কাঠামোর মধ্যেই পরিচালিত হচ্ছে। এই চুক্তির মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প–এর প্রথম মেয়াদে কয়েকটি আরব দেশের সঙ্গে ইসরায়েলের সম্পর্ক স্বাভাবিক করা হয়েছিল।
এদিকে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি মন্তব্য করেছেন, নেতানিয়াহু প্রকাশ্যে এমন একটি বিষয় সামনে এনেছেন, যা ইরানের গোয়েন্দা সংস্থাগুলো আগেই দেশটির নেতৃত্বকে জানিয়েছিল। তিনি ইসরায়েলের সঙ্গে এমন ঘনিষ্ঠতাকে “অমার্জনীয়” বলে অভিহিত করেন এবং জড়িতদের জবাবদিহির আওতায় আনার হুঁশিয়ারি দেন।
আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের বরাতে জানা গেছে, কথিত বৈঠকটি ওমান সীমান্তঘেঁষা আল-আইন শহরে অনুষ্ঠিত হয়েছিল এবং কয়েক ঘণ্টাব্যাপী আলোচনা চলে। যদিও আমিরাত সরকার এ তথ্যও প্রত্যাখ্যান করেছে।
এদিকে ইসরায়েলে নিযুক্ত যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত মাইক হাকাবি জানিয়েছেন, ইরানি হামলা মোকাবিলায় আমিরাতকে সহায়তা দিতে ইসরায়েল তাদের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরোধী ব্যাটারি পাঠিয়েছে।
যুদ্ধ শুরুর পর থেকে ইরান একাধিকবার আমিরাতকে লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে। আমিরাতের দাবি, তারা শত শত ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও হাজারের বেশি ড্রোন প্রতিহত করেছে। বিশ্লেষকদের মতে, ইরান-ইসরায়েল সংঘাত শুধু যুদ্ধক্ষেত্রেই নয়, মধ্যপ্রাচ্যের কূটনৈতিক সম্পর্কেও নতুন মেরুকরণ তৈরি করছে।

নেতানিয়াহু, আমিরাত, ইরান