স্থিতিশীল রাজনীতি ছাড়া উন্নয়ন সম্ভব নয়: ঢাবি শিক্ষার্থীদের সামনে প্রধানমন্ত্রী

  • সকালের আলো প্রতিবেদক
  • ২০২৬-০৫-১২ ২৩:৫৬:০৩
image

দেশ গঠন ও উন্নয়নের ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার ওপর জোর দিয়েছেন তারেক রহমান। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে তিনি বলেন, অস্থির পরিবেশে কোনো উন্নয়ন টেকসই হয় না, তাই জাতি গঠনে শিক্ষার্থীদেরও দায়িত্বশীল ভূমিকা রাখতে হবে।
মঙ্গলবার দুপুরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়–এর সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদ ভবনের অধ্যাপক মুজাফফর আহমদ চৌধুরী মিলনায়তনে আয়োজিত অনুষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের মুখোমুখি হন প্রধানমন্ত্রী। অনুষ্ঠানে বিভিন্ন অনুষদের ১৫৬ জন শিক্ষার্থী অংশ নেন এবং ১৭ জন সরাসরি প্রশ্ন করেন।
প্রধানমন্ত্রী শিক্ষার্থীদের বাংলা ও ইংরেজির পাশাপাশি অন্তত একটি বিদেশি ভাষা শেখার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, বহুভাষিক দক্ষতা ভবিষ্যতে আন্তর্জাতিক কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়াবে।
চারুকলা অনুষদের শিক্ষার্থী কাবেরী আজাদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, দেশে শিল্প-সংস্কৃতি কিংবা অন্য যেকোনো খাতের বিকাশ ঘটাতে হলে প্রথম প্রয়োজন স্থিতিশীল পরিবেশ। তিনি উল্লেখ করেন, শুধু রাজপথে আন্দোলন নয়, আলোচনাভিত্তিক রাজনৈতিক সংস্কৃতিও গড়ে তুলতে হবে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, “রাজনীতিকে সংসদে নিয়ে যেতে হবে। শুধু হইচই করে কোনো কিছু নির্মাণ করা যায় না। স্থিতিশীলতা ছাড়া উন্নয়ন বারবার ভেঙে পড়বে।”
শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে তিনি আরও বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে তরুণদের মতামত ও সচেতনতা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। কারণ আগামী বাংলাদেশের নেতৃত্ব বর্তমান শিক্ষার্থীদের হাতেই গড়ে উঠবে।
অনুষ্ঠানে বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসন সংকট, কর্মসংস্থান, প্রশ্নফাঁস, দুর্নীতি, শিক্ষক নিয়োগ, ইংরেজি মাধ্যম শিক্ষা এবং মাতৃভাষা চর্চাসহ নানা বিষয়ে প্রশ্ন ওঠে। জবাবে প্রধানমন্ত্রী অতীতের বড় বড় প্রকল্পে দুর্নীতি ও অর্থ পাচারের প্রসঙ্গ তুলে ধরে বলেন, এসব অনিয়মের কারণে রাষ্ট্রের অনেক উন্নয়ন পরিকল্পনা বাধাগ্রস্ত হয়েছে।
তিনি বলেন, “প্রতিবছর বিপুল অর্থ পাচার না হলে বিশ্ববিদ্যালয়ের হল, লাইব্রেরি ও শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন সমস্যার সমাধান অনেক আগেই করা সম্ভব হতো।”
দুর্নীতির বিষয়ে “শূন্য সহনশীলতা” ধারণাকে বাস্তবসম্মত নয় বলেও মন্তব্য করেন প্রধানমন্ত্রী। তবে তিনি বলেন, দুর্নীতি নিয়ন্ত্রণে কঠোরতা বাড়ানো এবং মানুষের মানসিকতার পরিবর্তন জরুরি।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক অবস্থান নিয়েও কথা বলেন তিনি। তার মতে, শিক্ষক নিয়োগে রাজনৈতিক প্রভাবের বদলে মেধা ও গবেষণাকে অগ্রাধিকার দিলে বিশ্ববিদ্যালয়ের মান আরও উন্নত হবে।
মাতৃভাষা প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ইংরেজি শেখা প্রয়োজন হলেও বাংলা ভাষা ও সংস্কৃতির সঙ্গে সংযোগ হারানো উচিত নয়। পারিবারিক চর্চা ও মানসিকতার পরিবর্তনের মাধ্যমেই এই ভারসাম্য রক্ষা সম্ভব বলে তিনি উল্লেখ করেন।
এর আগে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন আয়োজিত ‘বাংলাদেশে উচ্চশিক্ষা রূপান্তর : টেকসই উৎকর্ষতার রোডম্যাপ’ শীর্ষক কর্মশালার উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী। পরে তিনি শিক্ষার্থীদের সঙ্গে সরাসরি মতবিনিময়ে অংশ নেন।

কী-শব্দ: স্থিতিশীলতা, শিক্ষার্থী, রাজনীতি