সামাজিক উদ্যোক্তা তৈরির বিশ্বমঞ্চে বাংলাদেশের নতুন সম্ভাবনা,চ্যাম্পিয়ন ‘ডেনিম রিভাইভ’

  • শাহেদুজ্জামান শেখ
  • ২০২৬-০৫-০৯ ১১:৩২:১০
image

খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (কুয়েট)-এ বর্ণাঢ্য আয়োজনের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠিত হয়েছে “হাল্ট প্রাইজ বাংলাদেশ ন্যাশনাল রাউন্ড ২০২৬”। শুক্রবার (৮ মে) দিনব্যাপী আয়োজিত এ প্রতিযোগিতায় কুয়েটের পেশাগত দক্ষতা উন্নয়ন সংগঠন স্পেকট্রামের আয়োজনে দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের অন-ক্যাম্পাস প্রতিযোগিতায় বিজয়ী ৬০টি দল অংশ নেয়। দীর্ঘ প্রতিযোগিতা শেষে জাতীয় চ্যাম্পিয়নের গৌরব অর্জন করে দল  ‘ডেনিম রিভাইভ’  ।
অনুষ্ঠানের সমাপনী পর্বে  প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস-চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. মুহাম্মদ মাছুদ। তিনি তাঁর বক্তব্যে বলেন, “তরুণদের উদ্ভাবনী চিন্তা, সামাজিক সমস্যার সমাধানমুখী উদ্যোগ এবং উদ্যোক্তা মনোভাবই আগামী বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় শক্তি। হাল্ট প্রাইজের মতো আন্তর্জাতিক প্ল্যাটফর্ম শিক্ষার্থীদের নেতৃত্ব, সৃজনশীলতা ও বৈশ্বিক সক্ষমতা বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।” তিনি আরও বলেন, কুয়েট সবসময় উদ্ভাবন, গবেষণা ও সামাজিক প্রভাব সৃষ্টিকারী উদ্যোগকে উৎসাহিত করে এবং শিক্ষার্থীদের আন্তর্জাতিক পর্যায়ে নিজেদের মেধা তুলে ধরার সুযোগ তৈরি করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
এসময় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কুয়েটের বায়োমেডিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের বিভাগীয় প্রধান প্রফেসর ড. এম. এম. এ. হাসেম।
অনুষ্ঠানের সমাপনী পর্বে কুয়েটের পরিচালক (ছাত্র-কল্যাণ) ড. মো. হাসান আলী বলেন, শিক্ষার্থীদের শুধু একাডেমিক শিক্ষায় সীমাবদ্ধ না থেকে সমাজ ও দেশের বাস্তব সমস্যার সমাধানে এগিয়ে আসতে হবে। তিনি তরুণদের উদ্যোক্তা হিসেবে গড়ে তুলতে এ ধরনের আয়োজনের গুরুত্ব তুলে ধরেন।
স্পেকট্রামের মডারেটর ও মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. শরিফুল ইসলাম তার বক্তব্যে বলেন, হাল্ট প্রাইজ শুধু একটি প্রতিযোগিতা নয়; এটি তরুণদের চিন্তা, উদ্ভাবন ও সামাজিক দায়বদ্ধতাকে বাস্তব রূপ দেওয়ার একটি বৈশ্বিক প্ল্যাটফর্ম। তিনি আয়োজন সফল করতে সংশ্লিষ্ট সকলের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।
এছাড়া বক্তব্য দেন স্পেকট্রামের কো-মডারেটর ও ইন্ডাস্ট্রিয়াল ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড ম্যানেজমেন্ট বিভাগের প্রভাষক আসেফ শাহরিয়ার। তিনি তার বক্তব্যে শিক্ষার্থীদের উদ্ভাবনী উদ্যোগকে এগিয়ে নিতে দেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে এমন প্রতিযোগিতার ইতিবাচক প্রভাবের কথা তুলে ধরেন।
অনুষ্ঠানের প্রধান পৃষ্ঠপোষক ছিল ইস্পাহানি এবং সহ-পৃষ্ঠপোষক হিসেবে ছিল ট্রাস্ট ব্যাংক। বিকেল ৩টায় মধ্যাহ্নভোজ ও নামাজ বিরতির পর জাতীয় পর্বের চূড়ান্ত আয়োজন শুরু হয়। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন জুনায়েদ আল রাইয়ান ও নুজহাত সিনথিয়া সাবা।
বক্তারা জানান, হাল্ট প্রাইজ বিশ্বের বৃহত্তম শিক্ষার্থীভিত্তিক সামাজিক উদ্যোক্তা প্রতিযোগিতা, যা জাতিসংঘের কৌশলগত অংশীদারিত্বে পরিচালিত হয়। প্রতিবছর বিশ্বের ১২০টিরও বেশি দেশের শিক্ষার্থীরা খাদ্য নিরাপত্তা, জলবায়ু পরিবর্তন, শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা ও নবায়নযোগ্য জ্বালানির মতো গুরুত্বপূর্ণ বৈশ্বিক সমস্যার সমাধানে উদ্ভাবনী ব্যবসায়িক ধারণা উপস্থাপন করে। প্রতিযোগিতার বৈশ্বিক বিজয়ী দল পায় ১০ লাখ মার্কিন ডলারের সিড ফান্ড।
বাংলাদেশ পর্বে অংশগ্রহণকারী ৬০টি দলের মধ্য থেকে বিচারকদের মূল্যায়নে সেরা ৮টি দল ফাইনাল রাউন্ডে উত্তীর্ণ হয়। ফাইনালে জায়গা পাওয়া দলগুলো ছিল— সাইলেন্ট স্কলার, অন্নছায়া, শুরক্ষা টেক্স, নিউরোচেইন, ডেনিম রিভাইভ, টাইলাস, রিব্রিক ও জুটেরা। প্রতিটি দল চার মিনিটের পিচিং এবং চার মিনিটের প্রশ্নোত্তর পর্বে অংশ নেয়।
প্রতিযোগিতার বিচারক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন দেশের বিভিন্ন খাতের বিশিষ্ট উদ্যোক্তা, করপোরেট ব্যক্তিত্ব ও প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞরা। তাদের মধ্যে ছিলেন জাগ সিস্টেম লিমিটেডের সিইও বাহাউদ্দিন আরাফাত, কৃষি স্বপ্ন-এর প্রতিষ্ঠাতা ও সিইও সৈয়দ জুবায়ের হাসান, নেক্সটজব লিমিটেডের সিবিও শোয়েব হাসান, ভিএফএম ভেঞ্চারস লিমিটেডের ভাইস প্রেসিডেন্ট মাহফুজ রহমান সিএমএ, ব্রেইন স্টেশন ২৩-এর সল্যুশন কনসালট্যান্ট এমডি মিফতাহ উদ্দিন, নুপোর্টের সিইও ফাহিম সালাম এবং গ্রামীণ ডিজিটাল হেলথকেয়ার সল্যুশনের সিইও ড. আহমেদ আরমান সিদ্দিকসহ আরও অনেকে।
শেষে বিচারকদের সিদ্ধান্তে জাতীয় চ্যাম্পিয়ন হিসেবে ঘোষণা করা হয় দল ‘ডেনিম রিভাইভ’ -এর নাম। বিজয়ী দল এখন বৈশ্বিক ইনকিউবেশন প্রোগ্রামে অংশ নেওয়ার সুযোগ পাবে এবং আন্তর্জাতিক পর্বে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করবে।
পুরস্কার বিতরণ শেষে অতিথি, বিচারক, আয়োজক ও প্রতিযোগী দলগুলোর অংশগ্রহণে প্রাণবন্ত গ্রুপ ফটোসেশনের মাধ্যমে আয়োজনের সমাপ্তি ঘটে।