পশ্চিমবঙ্গে সাংবিধানিক সংকট তীব্র,বিধানসভা ভেঙে দিলেন রাজ্যপাল

  • আন্তর্জাতিক ডেস্ক
  • ২০২৬-০৫-০৭ ২২:৪২:৩৪
image

পশ্চিমবঙ্গ-এর রাজনীতিতে নজিরবিহীন সংকট তৈরি হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নির্ধারিত সময়ের মধ্যে পদত্যাগ না করায় রাজ্যপাল আর এন রবি রাজ্য বিধানসভা ভেঙে দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় রাজভবন থেকে প্রকাশিত গেজেট নোটিফিকেশনে এ সিদ্ধান্ত জানানো হয়।
ভারতীয় সংবিধানের ১৭৪ নম্বর ধারার ২(বি) উপধারার ক্ষমতাবলে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলে গেজেটে উল্লেখ করা হয়েছে। নির্দেশনাটি প্রকাশ করেন রাজ্যের মুখ্য সচিব দুষ্যন্ত নারিয়ালা।
এর আগে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে ৭ মে’র মধ্যে পদত্যাগের সময়সীমা দেওয়া হয়েছিল। তবে তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দেন, তিনি পরাজিত হননি এবং পদত্যাগ করবেন না। গত ৫ মে কলকাতায় এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, “আমি রাস্তার মানুষ, লড়াই আবার রাস্তাতেই নিয়ে যাব।”
এদিকে রাজনৈতিক উত্তেজনার মধ্যেই কলকাতায় উপস্থিত হয়ে অখিলেশ যাদব ঘোষণা দিয়েছেন, ‘ইন্ডিয়া’ জোট ঐক্যবদ্ধভাবে এই পরিস্থিতির মোকাবিলা করবে। বিশ্লেষকদের মতে, রাজ্যপালের সিদ্ধান্ত ও বিরোধী জোটের রাজপথে নামার ঘোষণায় পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক পরিস্থিতি আরও অস্থির হয়ে উঠতে পারে।
রাজনৈতিক সংকটের মধ্যেই নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়েছে বিজেপি নেতা শুভেন্দু অধিকারীর ব্যক্তিগত সহকারী চন্দ্রনাথ রথ হত্যাকাণ্ডকে ঘিরে। বুধবার রাতে মধ্যমগ্রামের দোহারিয়ায় দুর্বৃত্তদের গুলিতে নিহত হন তিনি। হামলায় শুভেন্দুর গাড়িচালকও আহত হয়েছেন।
শুভেন্দু অধিকারী অভিযোগ করেছেন, ভবানীপুরে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে পরাজিত করার প্রতিশোধ হিসেবেই তার ঘনিষ্ঠ সহযোগীকে হত্যা করা হয়েছে। তিনি ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও জড়িতদের সর্বোচ্চ শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
পুলিশ জানিয়েছে, হামলায় ব্যবহৃত মোটরবাইক উদ্ধার করা হয়েছে এবং তদন্তে বিশেষ তদন্ত দল (এসআইটি) গঠন করা হয়েছে। তবে এখনো হত্যাকাণ্ডের পেছনের মূল পরিকল্পনাকারীদের পরিচয় নিশ্চিত করতে পারেনি আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।
সব মিলিয়ে সাংবিধানিক টানাপোড়েন, রাজনৈতিক সংঘাত এবং হত্যাকাণ্ডের ঘটনাকে কেন্দ্র করে পশ্চিমবঙ্গের পরিস্থিতি ক্রমেই উত্তপ্ত হয়ে উঠছে।