চাঁপাইনবাবগঞ্জ প্রতিনিধি:
চাঁপাইনবাবগঞ্জের ভোলাহাট উপজেলার খালেআলমপুর গ্রামের আবুল হোসেনের ১৭ বছরের তরুনী মেয়ে আয়েশা খাতুন ২০১৯ সালের ৩ মে দুপুরে বাড়ি থেকে নিখোঁজ হন। তাকে অনেক খুঁজেও না পেয়ে ২০২১ সালে ভোলাহাট থানায় নিখোঁজ ডায়েরি করে পরিবার। পরে ২০২৩ সালে আয়েশার মা আদরী বেগম ৪ গ্রামবাসীর নামোল্লখসহ অজ্ঞাতনামাদের আসামী করে আদালতে অপহরন ও হত্যার ‘তদন্ত পিটিশন’ মামলা করেন। আদালত মামলার তদন্তভার দেয় সিআইডিকে। কিন্তু বাদীর অসহযোগিতার কারণে মামলাটি আদালত খারিজ করে দেয়।
পরে ২০২৪ সালে একই অভিযোগে একই গ্রামবাসীদের আসামী করে আদালতে পূণরায় মামলা করেন আদরী বেগম। এবার আদালত মামলার তদন্তভার দেয় ভোলাহাট থানা পুলিশকে। তদন্ত চলাকালে পুলিশ গত রোববার(৩ এপ্রিল) রাত সাড়ে ৮টার দিকে অপহরণ ও হত্যা মামল্রা ভিকটিম নিখোঁজ আয়েশাকে (২৪) ভোলাহাটের বাসষ্ট্যান্ড এলাকা থেকে দীর্ঘ ৭ বছর পর সম্পূর্ণ অক্ষত অবস্থায় উদ্ধার করে।
ভোলাহাট থানার অফিসার ইনচার্জ(ওসি) আব্দুল বারিক বলেন, ঊদ্ধারের পর আয়েশাকে জিজ্ঞাসবাদে তিনি বিভিন্ন রকম তথ্য দেন। প্রথমে ২০১৯ সালে তাঁকে গ্রাম থেকে ক্উে তাকে নিয়ে যায় বলে জানান। পরে তিনি ঢাকাসহ বিভিন্ন স্থানে ছিলেন। এক পর্যায়ে তাঁকে নিষিদ্ধ পল্লীতেও রাখা হয়। কুষ্টিয়াতে তিনি কিছুদিন সেইফহোমে ছিলেন বলেও জানান। এর মধ্যে একবার তাঁর বিয়েও হয়। তবে এ সব তথ্যের কোন সত্যতা বা প্রমাণ এখও মেলেনি। আয়েশা সুনির্র্দিষ্টভাবেও এসব তথ্য দিতে পারেন নি। তাঁকে অপরহরণ,গুম বা হত্যার অভিযোগ প্রাথমিকভাবে প্রমাণিত হয় নি। তিনি অনেকটা অসংলগ্ন কথাবার্তা বলেছেন বলে জানান ওসি।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা (আইও) এবং ভোলাহাট থানার উপপরিদর্শক(এসআই) কামাল হোসেন বলেন,পুলিশী জিজ্ঞাসবাদ শেষে সোমবার(৪ মে) বিকালে আয়েশাকে জুডিশিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট আদালতে তোলা হয়। আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দী দেবার পর আদালত তাঁকে পিতা-মাতার জিম্মায় দেন। আদালতে আয়েশা সুনির্দিষ্ট কারও বিরুদ্ধে কোন অভিযোগ করেন নি। মামলার তদন্ত অব্যহত রয়েছে বলেও জানান পুলিশ কর্মকর্তা কামাল।