যে মেয়েটি হাসতে হাসতে চোখের জল আড়াল করে
সে পারে খুব হারিয়ে যেতে;
একলা একা নিজের সাথে।
সে পারে তার দুঃখগুলো বৈয়াম ভরে রোদ শুকাতে
মশলামাখা আমসত্ত্বের পরত দিতে,
মনের ভীষণ কষ্টগুলো স্নানের জলে ধুয়ে দিয়ে
ভীষণ পারে সুগন্ধিতে মন ভরাতে
ঠোঁটের কোণে হাসিটাকে ঝুলিয়ে রেখে
বিষন্নতার দুপুরগুলো কাটিয়ে দিতে
খুব জানে সে।
সেই মেয়েটি হাসতে হাসতে কাঁদতে জানে
কাঁদতে কাঁদতে হাসতে জানে
বুকের কপাট খুলে দিয়ে দুঃখগুলো গিলতে পারে
ঝরা পালক হয়ে সে যে বাতাস মাঝে ভাসতে জানে
আবার দেখো লাটাই মাঝে ঘুড়ি হয়ে নীল আকাশে উড়ছে সে যে।
সেই মেয়েটি আমি তুমি
সেই মেয়েটি আমরা সবাই,
আমরা জানি কেমন করে দুঃখগুলো আড়াল করি সুখের তরী ভাসিয়ে দিয়ে কেমন করে জীবন কাটাই
সেই মেয়েটি আমি তুমি আমরা সবাই
জীবনভর সুখ নামের এক অলীক স্বপ্ন লালন করি।
আমরা জানি ঠোঁটের কোণে মিষ্টি হাসি ঝুলিয়ে রেখে
ন্যাপথলিনে দুঃখগুলো আলমারির ঐ তাকে তাকে পরত পরত সাজিয়ে নিতে।
আমি তুমি আমরা সবাই
ঝরঝরিয়ে কাঁদতে থাকা সেই মেয়েটি
যে জানে ঐ দুঃখগুলো আড়াল করে হাসতে হাসতে হারিয়ে যেতে
খুব পারে সে- হারিয়ে যেতে
নিজের সকল চাওয়া পাওয়া বাক্সবন্দি করতে জানে
বুকের মাঝে দুঃখগুলো পুষতে পারে
ভেঙ্গে ভেঙে পড়তে পড়তে জানে কতক জুড়তে হবে,
সেই মেয়েটি মায়ার সাগর গড়তে জানে
সেই মেয়েটি ভীষণ ভালোবাসতে পারে।
হাসতে হাসতে কাঁদতে জানে
কাঁদতে কাঁদতে হাসতে জানে।