ইরানের ‘ছায়া ব্যাংকিং’ নেটওয়ার্কে নতুন মার্কিন নিষেধাজ্ঞা,বাড়ছে চাপ

  • আন্তর্জাতিক ডেস্ক
  • ২০২৬-০৪-২৯ ১০:৩০:২৯
image

মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতির মধ্যে ইরানের ওপর নতুন করে অর্থনৈতিক চাপ বাড়িয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। দেশটির তথাকথিত ‘ছায়া ব্যাংকিং’ ব্যবস্থার মাধ্যমে অবৈধ অর্থ লেনদেনের অভিযোগে ৩৫টি ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের ওপর কঠোর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে মার্কিন অর্থ বিভাগ।
এই সিদ্ধান্ত এসেছে এমন এক সময়ে, যখন ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র-এর মধ্যে যুদ্ধবিরতি ও সমঝোতা আলোচনা অচলাবস্থায় পড়েছে। কূটনৈতিক তৎপরতা চললেও বাস্তব অগ্রগতি না থাকায় উভয় পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা বাড়ছে।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সামাজিক মাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে দাবি করেছেন, ইরান হরমুজ প্রণালীতে আরোপিত অবরোধ শিথিলের অনুরোধ জানিয়েছে। একই সঙ্গে তিনি সতর্ক করেন, ইরানকে সহায়তাকারী আর্থিক নেটওয়ার্কগুলোর বিরুদ্ধেও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
মার্কিন অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট বলেন, নিষেধাজ্ঞার আওতায় আসা ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানগুলো নিষেধাজ্ঞা এড়িয়ে বিপুল অঙ্কের অর্থ স্থানান্তরে সহায়তা করেছে। তার ভাষায়, এই অর্থ ইরানের আঞ্চলিক কর্মকাণ্ড এবং তথাকথিত সন্ত্রাসে সহায়তা দিয়েছে।
ওয়াশিংটনের মতে, এই ‘ছায়া ব্যাংকিং’ ব্যবস্থা দীর্ঘদিন ধরে ইরানের জন্য বিকল্প আর্থিক চ্যানেল হিসেবে কাজ করে আসছিল। এর মাধ্যমে আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা পাশ কাটিয়ে অর্থ প্রবাহ বজায় রাখা হচ্ছিল।
এদিকে চীন-এর কিছু রিফাইনারির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যাংকগুলোকেও সতর্ক করা হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের দাবি, এসব প্রতিষ্ঠান হরমুজ প্রণালী দিয়ে জাহাজ চলাচলের জন্য টোল প্রদান করছে, যা ইরানের আয় বাড়াতে ভূমিকা রাখছে।
বিশ্লেষকদের মতে, এই নিষেধাজ্ঞার মূল উদ্দেশ্য হলো ইরানকে আলোচনার টেবিলে নমনীয় হতে বাধ্য করা। বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাতের প্রেক্ষাপটে ইরানের অর্থনৈতিক ভিত্তিকে দুর্বল করা কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছে ওয়াশিংটন।
অন্যদিকে তেহরান এই পদক্ষেপকে নতুন কিছু হিসেবে দেখছে না। ইরানের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে,এ ধরনের নিষেধাজ্ঞা তাদের নীতিগত অবস্থান পরিবর্তন করতে পারবে না।
সামগ্রিকভাবে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠছে। একদিকে হরমুজ প্রণালীকে ঘিরে উত্তেজনা, অন্যদিকে কূটনৈতিক অচলাবস্থা-সব মিলিয়ে মধ্যপ্রাচ্যে নতুন এক স্নায়ুযুদ্ধের আবহ তৈরি হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা আশঙ্কা করছেন, এই নিষেধাজ্ঞার প্রভাব ইরানের তেল রপ্তানি ও বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারেও পড়তে পারে।
এখন নজর ১ মে’র সময়সীমার দিকে-তার আগে দুই দেশের মধ্যে কোনো সমঝোতা হয়,নাকি উত্তেজনা আরও বাড়ে, সেটিই দেখার বিষয়।