শহরের ভিড়ে দাঁড়িয়ে
একটা শব্দ বারবার কানে বাজে-
'সব ঠিক হয়ে যাবে…'
কিন্তু ঠিক হওয়ার সংজ্ঞাটা
কেউ কখনো খুলে বলে না।
চায়ের কাপে জমে থাকা ঠাণ্ডা ধোঁয়ার মতো
আমার স্বপ্নগুলোও থেমে থাকে মাঝপথে,
কেউ এসে বলে-
'আর একটু অপেক্ষা করো…'
অপেক্ষারও কি কোনো শেষ আছে?
রাতগুলো এখন আর অন্ধকার না,
বরং অদ্ভুত এক আলোর ভেতর ডুবে থাকে-
যেখানে প্রতিটা আলোই
আসলে একটা করে মিথ্যা প্রতিশ্রুতি,
যেগুলো জ্বলে শুধু ভাঙার জন্য।
তুমি বলেছিলে-
'আমি আছি,সবসময় থাকবো…'
কিন্তু ‘সবসময়’ শব্দটা
আজকাল খুব ছোট লাগে,
যেন একটা ক্ষণস্থায়ী বিজ্ঞাপন
যা দেখা শেষেই হারিয়ে যায়।
বাস্তবতা খুব নির্মম,
এখানে কেউ কারো জন্য থামে না,
শুধু কিছু মানুষ
মায়ার জালে জড়িয়ে
নিজেকেই বোঝায়-
সব ঠিক আছে।
মিথ্যা আশ্বাসগুলো
প্রথমে ভরসা দেয়,
তারপর ধীরে ধীরে
ভেতরটা ফাঁকা করে দেয়-
যেন কেউ নিঃশব্দে
একটা শহর ভেঙে ফেলছে।
আমি এখন আর বিশ্বাস করি না-
'কাল ভালো হবে'এই কথাটায়,
কারণ কাল আসার আগেই
আজকের মতোই
আরেকটা মিথ্যা গল্প তৈরি হয়।
তবুও মানুষ বেঁচে থাকে,
কিছু ভাঙা শব্দ,
কিছু অসমাপ্ত স্বপ্ন
আর অনেকগুলো মিথ্যা আশ্বাস নিয়ে-
কারণ সত্যিটা অনেক কঠিন,
আর মিথ্যাটা…
অল্প সময়ের জন্য হলেও
বাঁচিয়ে রাখে।
হয়তো এটাই আমাদের অভ্যাস-
ভাঙতে ভাঙতে বাঁচা,
আর বাঁচতে বাঁচতে
নিজেকেই মিথ্যা বলা।