সন্দেহজনক হাম রোগিতে ঠাঁসা চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা হাসপাতাল,র‌্যাম্পেও রোগি

  • জাকির হোসেন পিংকু,
  • ২০২৬-০৪-২৭ ২০:৫১:২১
image

চাঁপাইনবাবগঞ্জ প্রতিনিধি:
সন্দেহজনক হামে আক্রান্ত শিশু রোগিতে ভর্তি চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা হাসপাতাল। পুরাতন ভবনের  ততৃীয় তলার ২২ শয্যার শিশু ওয়ার্ডে স্থান শেষ হয়েছে অনেক আগেই। এরপর মেঝেতেও স্থান সংকুলান না হওয়ায় চালু না হওয়া  তৃতীয় তলার কিডনি ডায়ালাইসিস  ইউনিট(আইসোলেসন কর্নার-১),দ্বিতীয় তলার ১২ শয্যার নবজাতক( নিওনেটাল) ইউনিট এবং  সর্বশেষ নীচতলার পুরাতন শিশু ডায়ারিয়া  ওয়ার্ডকে আরেকটি আইসোলেসন কর্নার বানিয়ে রোগি রেখেও স্থান সংকুলান হচ্ছে না।
সরেজমিনে ভবন ঘুরে দেখা গেছে, এখন এমনকি তিনতলা পর্যন্ত ওঠার র‌্যাম্পেও (হুইল চেয়ার বা ষ্ট্রেচার  নিয়ে ওঠার ব্যবস্থা) রোগিরা ঠাঁই নিয়েছে। মানে র‌্যাম্পে উচু-নীচু হয়ে কোনক্রমে থাকতে হচ্ছে।  তীব্র গরমে মানবতের অবস্থা। এছাড়া রয়েছে ডায়ারিয়া রোগি। কখনও প্রায় অর্ধশত ডায়ারিয়া আক্রান্ত শিশুও ভর্তি থাকছে হাসপাতালে। শ^াসকেষ্টের রোগিও রয়েছে। প্রায় পুরো হাসপাতাল ভবনে আর কোন স্থান নেই রোগি রাখার। খাবার বা ওষুধের ষ্ট্রেচার ঠেলার  পথ নেই ভবনের ভেতরে।
কর্তৃপক্ষ এখন চিন্তা করছেন নতুন ৮ তলা ভবনে কিছু রোগি রাখার।  অন্যন্যা নিয়মিত রোগি রাখা সেই ভবনেও স্থান সংকট।  তবে ভবনের ৯ম তলার চালু না হওয়া আইসিইউ-তে কিছু রোগি সামযিকভাবে রাখা যেতে পারে। তবে ভবনের দুটি লিফটের একটি নষ্ট। ঘন ঘন বিদ্যুৎ বিভ্রাটে  চালু লিফটটি নিয়ে  সংশয়ে থাকেন সকলে। এছাড়া  মূল্যবান যন্ত্র  থাকা স্থানটি  উন্মুক্ত করা নিরাপদ নয়। এ অবস্থায় আরও  রোগি বাড়লে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের হাল ছেড়ে দেয়ার অবস্থা হবে। সংম্লিস্টরা বলছেন,  অতি চোঁয়াচে রোগটি কিছুটা নিয়ন্ত্রণে চলে আসলে  ােগি ব্যবস্থাপনাও উন্নত হবে। সহজেই পরিস্থিতি সামাল দেয়া যাবে।
 হাসপাতাল তত্বাভধায়ক ডা.  মশিউর রহমান বলেন,কিভাব্ ে নাজুক পরিস্থিতি সামল দেয়া যায় সে চেষ্টা চলছে। কোন রোেিগকেই বিনা চিকিৎসায় হাসপাতাল থেকে যেতে দেয়া হচ্ছে না। গত ৫ এপ্রিল থেকে জেলায় প্রথম ও ২০ এপ্রিল থেকে দ্বিতীয় পর্যায়ে  হামের এমআর টিকা  দেয়া হচ্ছে। টিকা কাজ শুরু করলে পরিস্থিতির উন্নতি হবে। হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা(আরএমও) ডা. আব্দুস সামাদ বলেন,হাসপাতালে জনবল ও চিকিৎসক অর্ধেকের বেশি সংকট রয়েছে। ২৫০ শয়্যার হাসপাতালে এখন গড়ে  ৫ থেকে ৬ শত রোগি থাকে। প্রায় তা ৭০০ পর্যন্ত হয়। সাময়িক কিছু  চিকিৎসক,জনবল সমর্থণ পেলেও  হামের জন্য দেশের  অন্যতম ঝুঁকিপূর্ণ এই জেলায় পরিস্থিতি সামাল দেয়া  আরেকটু সহজ হত।
এদিকে সোমবার(২৭ এপ্রিল) হাম সন্দেহে নতুন করে ৩১ জন জেলার সরকারি হাসপাতালগুলোতে ভর্তি হয়েছে। এখন হাসপাতালে ৯৪ জন সন্দেজনক হাম রোগি চিকিৎসাধীণ। জেলা হাসপাতাল সূত্র জানায়, সোমবার জেলা হাসপাতালে আরও ২৭ রোগি ভর্তি হয়েছে। সিভিল সার্জন কার্যালয় সূত্র জানায়, এছাড়াও জেলার গোমস্তাপুর  উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নতুন করে ৩ জন ও শিবগঞ্জে ১ জন রোগি ভর্তি রয়েছে। সূত্রগুলো জানায়, জেলায় হাম সন্দেহে গত জানুয়ারী থেকে এ পর্যন্ত ১০৭২ রোগি হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। যার মধ্যে ১০১৮ জন শুধুমাত্র জেলা হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। জেলায় এ পর্যন্ত ৭ সন্দেহজনক হামে আক্রান্ত শিশুর মৃত্যু হয়েছে।
জেলার ৫ উপজেলায় চলমান  হামের টিকাদান কর্মসূচীতে  সোবার(২৭ এপ্রিল)  পর্যন্ত ১ লক্ষ ৭৪ হাজার ৮৩৪ জনকে টিকা দেয়া হয়েছে। যা টার্গেট ২ লক্ষ ১ হাজার ৮৯৭ জনের প্রায় ৮৭ শতাংশ। এদিকে এ পর্যন্ত  জেলা থেকে পাঠানো ২০৩ জনের নমুণা পরীক্ষা করে  ৪৩ জনকে পজিটিভ পাওয়া গেছে।