পাচারকৃত সম্পদ ফেরাতে ১০ দেশের সঙ্গে চুক্তির উদ্যোগ, সরকারের কৌশলে গতি

  • সকালের আলো প্রতিবেদক
  • ২০২৬-০৪-২২ ২০:৩৫:০৩
image

বিদেশে পাচার হওয়া সম্পদ দেশে ফিরিয়ে আনতে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিচ্ছে সরকার—এমনটাই জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। জাতীয় সংসদে প্রশ্নোত্তর পর্বে তিনি বলেন, দুর্নীতি, মানিলন্ডারিং ও আর্থিক অপরাধ দমনে বৃহত্তর কৌশলের অংশ হিসেবে এই কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী জানান, পাচারকৃত অর্থের গন্তব্য হিসেবে প্রাথমিকভাবে ১০টি দেশ চিহ্নিত করা হয়েছে—যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, কানাডা, সুইজারল্যান্ড, অস্ট্রেলিয়া, থাইল্যান্ড, সংযুক্ত আরব আমিরাত, সিঙ্গাপুর, মালয়েশিয়া এবং হংকং। এর মধ্যে মালয়েশিয়া, হংকং ও সংযুক্ত আরব আমিরাত ইতোমধ্যে চুক্তিতে সম্মতি দিয়েছে, বাকি দেশগুলোর সঙ্গে প্রক্রিয়া চলমান।
তিনি বলেন, ‘পারস্পরিক আইনগত সহায়তা চুক্তি’ বা Mutual Legal Assistance Treaty এবং MLAR বিনিময়ের মাধ্যমে তথ্য আদান-প্রদান ও সম্পদ শনাক্তকরণ কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে।
সরকারি তথ্যমতে, ২০০৯ থেকে ২০২৩ সালের মধ্যে বাংলাদেশ থেকে প্রায় ২৩৪ বিলিয়ন মার্কিন ডলার অবৈধভাবে বিদেশে পাচার হয়েছে, যা বছরে গড়ে প্রায় ১৬ বিলিয়ন ডলার। এই বিপুল অর্থ উদ্ধারে একাধিক সংস্থা সমন্বয়ে কাজ করছে।
এ লক্ষ্যে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরের নেতৃত্বে একটি টাস্কফোর্স গঠন করা হয়েছে এবং দুর্নীতি দমন কমিশন-এর নেতৃত্বে ১১টি যৌথ তদন্ত দল কাজ করছে। এতে পুলিশ সিআইডি, জাতীয় রাজস্ব বোর্ড ও শুল্ক গোয়েন্দা সংস্থাও যুক্ত রয়েছে।
সরকারি হিসাব অনুযায়ী, দেশে ৫৭ হাজার কোটি টাকার বেশি এবং বিদেশে প্রায় ১৩ হাজার কোটি টাকার সম্পদ ইতোমধ্যে জব্দ বা অবরুদ্ধ করা হয়েছে। সব মিলিয়ে প্রায় ৭০ হাজার কোটি টাকার সম্পদ আইনি প্রক্রিয়ায় ফ্রিজ করা হয়েছে।
এছাড়া পাচারকৃত অর্থ উদ্ধারে ১৪১টি মামলা দায়ের করা হয়েছে, যার মধ্যে কয়েকটি মামলার রায়ও ইতোমধ্যে হয়েছে।
সরকার এই প্রক্রিয়াকে আরও গতিশীল করতে বাংলাদেশ ফিনান্সিয়াল ইনটেলিজেন্স ইউনিট-এর অধীনে ‘স্টোলেন অ্যাসেট রিকভারি ডিভিশন’ গঠন করেছে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, অতীতের দুর্নীতি ও অর্থপাচারের পূর্ণাঙ্গ চিত্র তুলে ধরতে একটি শ্বেতপত্র প্রণয়ন করা হয়েছে এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলমান।

কী-ওয়ার্ড:অর্থপাচার প্রতিরোধ,সম্পদ পুনরুদ্ধার উদ্যোগ,এমএলএটি চুক্তি