দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় অবকাঠামোগত প্রভাব আরও জোরদার করতে চীন এবার নজর দিয়েছে রেলখাতে। দেশটি ভিয়েতনামকে উচ্চগতির রেল (হাই-স্পিড রেল) নির্মাণে ঋণ ও প্রযুক্তিগত সহায়তা দেওয়ার প্রস্তাব দিয়েছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, ভিয়েতনামের রেল নেটওয়ার্ক আধুনিকায়নে অর্থায়ন এবং প্রযুক্তি সরবরাহে আগ্রহ প্রকাশ করেছে বেইজিং। বিশেষ করে রাজধানী হ্যানয় এবং বাণিজ্যিক কেন্দ্র হো চি মিন সিটির মধ্যে দ্রুতগতির রেল সংযোগ স্থাপনের পরিকল্পনাকে সামনে রেখে এই প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।
চীনের রাষ্ট্রায়ত্ত রেল কোম্পানিগুলো ইতোমধ্যে বিশ্বের বৃহত্তম উচ্চগতির রেল নেটওয়ার্ক গড়ে তুলেছে। সেই অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে বিদেশে রেল প্রযুক্তি রপ্তানির কৌশল নিয়েছে দেশটি। বিশ্লেষকদের মতে, এই উদ্যোগ মূলত Belt and Road Initiative-এর অংশ, যার মাধ্যমে বিভিন্ন দেশে অবকাঠামো উন্নয়নে বিনিয়োগ বাড়াচ্ছে চীন।
ভিয়েতনাম দীর্ঘদিন ধরে তাদের রেলব্যবস্থা উন্নয়নের পরিকল্পনা করলেও প্রকল্প ব্যয়, প্রযুক্তি নির্বাচন এবং অর্থায়ন নিয়ে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে পারেনি। এই প্রেক্ষাপটে চীনের প্রস্তাব নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলে দিয়েছে।
তবে বিশ্লেষকরা সতর্ক করে বলেছেন, এই ধরনের বড় অবকাঠামো বিনিয়োগ একদিকে যেমন উন্নয়নের সুযোগ তৈরি করে, অন্যদিকে কৌশলগত নির্ভরশীলতার ঝুঁকিও বাড়ায়। বিশেষ করে ঋণনির্ভর প্রকল্পগুলো দীর্ঘমেয়াদে অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক প্রভাব ফেলতে পারে।
এদিকে চীন তার হাই-স্পিড রেল প্রযুক্তির সক্ষমতা প্রদর্শনের জন্য বিদেশি প্রতিনিধিদের আমন্ত্রণ জানাচ্ছে, যাতে তারা সরাসরি এই প্রযুক্তির কার্যকারিতা পর্যালোচনা করতে পারেন।
সব মিলিয়ে, ভিয়েতনামকে দেওয়া এই প্রস্তাব দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় চীনের অর্থনৈতিক ও কৌশলগত উপস্থিতি আরও শক্তিশালী করার ইঙ্গিত দিচ্ছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।