সংসদে নিরপেক্ষতা না পাওয়ার অভিযোগ,ওয়াকআউট ও সংস্কার ইস্যুতে কড়া অবস্থান শফিকুর রহমানের

  • সকালের আলো প্রতিবেদক
  • ২০২৬-০৪-১৭ ১৪:৪০:৪০
image

বিরোধীদলীয় নেতা ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী-এর আমির ডা. শফিকুর রহমান সংসদে স্পিকারের নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে অভিযোগ করেছেন, বিরোধী দল সেই নিরপেক্ষতা পায়নি। গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে কথা বলার সুযোগ না পেয়ে তারা ওয়াকআউট করতে বাধ্য হয়েছেন বলেও জানান তিনি।
শুক্রবার সকালে রাজধানীর মগবাজারের আল-ফালাহ মিলনায়তনে আয়োজিত জেলা ও মহানগর আমির সম্মেলনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
সংসদে বিতর্কের সময়সীমা নিয়েও অসন্তোষ প্রকাশ করে তিনি বলেন, দুই মিনিটে কোনো পার্লামেন্টারি বিতর্ক সম্ভব নয়, এতে কেবল সংক্ষিপ্ত মন্তব্যই করা যায়। পরে সময় কিছুটা বাড়ানো হলেও তা যথেষ্ট ছিল না এবং সরকারের পক্ষ থেকে দীর্ঘ সময় বক্তব্য দেওয়ার সুযোগ রাখা হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
ডা. শফিকুর রহমান জানান, ১২ মার্চ প্রথম অধিবেশনে উত্থাপিত ১৩৩টি অধ্যাদেশ নির্ধারিত সময়ের মধ্যে নিষ্পত্তির কথা থাকলেও অধিকাংশই আলোচনায় আসেনি। কার্য উপদেষ্টা কমিটিতে সম্মতি থাকা সত্ত্বেও সব অধ্যাদেশ সংসদের টেবিলে তোলা হয়নি এবং আলোচ্যসূচিতে মাত্র একটি বিষয় অন্তর্ভুক্ত করা হয়।
তিনি বলেন, এসব অধ্যাদেশের মধ্যে দুর্নীতি দমন কমিশন পুনর্গঠন, মানবাধিকার কমিশন, পুলিশ সংস্কার, গুম প্রতিরোধ এবং বিচার বিভাগের স্বাধীনতা নিশ্চিতের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয় অন্তর্ভুক্ত ছিল। বিরোধী দলের ‘নোট অব ডিসেন্ট’ বিবেচনায় নেওয়া হয়নি বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
ব্যাংকিং খাত নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে তিনি বলেন, অতীতে বিপুল অর্থ পাচার হলেও তা উদ্ধারে কার্যকর উদ্যোগ দেখা যাচ্ছে না। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নর পদে পরিবর্তনসহ বিভিন্ন ঘটনায় রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি, যা দেশের আর্থিক ব্যবস্থার জন্য ঝুঁকিপূর্ণ।
তিনি আরও আশঙ্কা প্রকাশ করেন, তফশিলি ও বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোতেও অনিয়মের প্রভাব পড়তে পারে। ব্যাংক জনগণের সম্পদ উল্লেখ করে তিনি দেশবাসীকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানান।
জ্বালানি খাত নিয়ে বক্তব্যে অসংগতির অভিযোগ তুলে বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, সরকার সংকট না থাকার কথা বললেও বাস্তবে লোডশেডিং ও জ্বালানি সংকট মানুষের ভোগান্তি বাড়াচ্ছে। এর ফলে শিল্প উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে এবং দ্রব্যমূল্যের ওপর চাপ বাড়ছে।
তিনি বলেন, বৈশ্বিক পরিস্থিতির প্রভাব থাকলেও অভ্যন্তরীণ দুর্বলতা ও নীতিগত ভুলে সংকট আরও তীব্র হয়েছে। জাতীয় স্বার্থে খোলামেলা আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের পথে এগোনোর আহ্বান জানান তিনি।
গণভোটের রায় বাস্তবায়ন এবং সংস্কার অধ্যাদেশগুলো বিল আকারে সংসদে উপস্থাপনের দাবি জানিয়ে তিনি বলেন, জনগণের মতামত উপেক্ষা করা হলে তা গণতান্ত্রিক চর্চার জন্য ক্ষতিকর হবে এবং ভবিষ্যতে বড় সংকট তৈরি করতে পারে।

কী-ওয়ার্ডস:
সংসদ বিতর্ক,শফিকুর রহমান,ব্যাংকিং সংকট