চাঁপাইনবাবগঞ্জে নেচে-গেয়ে বর্ষবরণ করল ক্ষুদ্র-নৃগোষ্ঠীর মানুষেরা

  • জাকির হোসেন পিংকু,
  • ২০২৬-০৪-১৪ ১৯:১৯:১২
image

চাঁপাইনবাবগঞ্জ প্রতিনিধি:
নিজস্ব বাদ্য-বাজনা নিয়ে বরেন্দ্রাঞ্চলের  সাঁওতাল,ওরাঁও,কোল সহ বিভিন্ন ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর নৃত্য-গীত ছিল চাঁপাইনবাবগঞ্জে ১৪৩৩ বাংলা নববর্ষ  বরণের কেন্দ্রে। মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল) সকালে জেলা প্রশাসন আয়োজিত শোভাযাত্রায়  অংশ নেয় বিভিন্ন সাংস্কৃতিক ও সামাজিক সংগঠন। অংশগ্রহণকারীদের বড় অংশ ছিল রঙ্গিণ সাজে সজ্জিত মোরগ সহ বিভিন্ন মোটিফ হাতে শিশুরা। তরুনীরা বাসন্তি সাজে আর তরুণরা পাঞ্জাবী পরে শোভাযাত্রায় অংশ নেয়। বড়রাও গামছা গলায় ছিল একই সাজ-পোষাকে।  
বর্ণিল শোভাযাত্রায়  অসাম্প্রদায়িক চেতানায় ক্ষুদ্র-নৃগোষ্ঠীর সাংস্কৃতিক দল ঢোল,মাদল নিয়ে নাচতে নাচতে পুরো পথ অতিক্রম করে। তাঁদের দিকে দৃষ্টি ছিল সকলেরই। শোভাযাত্রায় ছিল পালকি,গরুর গাড়ি ও ঘোড়ার গাড়ি। আল্পনা  আঁকা শোভাযাত্রার পথে শিশুদের হাতে ছিল আম সহ ভিভিন্ন ফল,শাপলা সহ বিভিন্ন ফুল,মুখোস, মাটির কলস, হাঁড়ি ও কুলা।
বিশাল শোভাযাত্রায় অনেকে সাজেন কাকতাড়–য়া,চাষী,কৃষাণী,জেলে,তাঁতী,কামার-কুমোর, একতারা হাতে বাউল,মাঝি,ঘটক,রানার,ঘোলওয়ালা, বাঁশিওয়ালা,রাখাল ও নতুন বর-বউ। শোভাযাত্রাটি জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের সামনে থেকে শুরু হয়ে আবারও একই স্থানে এসে শেষ হয়।
এরপর জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের সামনে বেলুন উড়িয়ে কার্যালয় চত্বরে  বিসিকের সহযোগিতায় ১০ দিনব্যাপী লোকজ ও গ্রামীণ মেলা উদ্বোধণ করা হয়। মেলা মঞ্চে জনপ্রিয় লোকজ গম্ভীরা গান সহ সঙ্গীত,নৃত্য পরিবশেন করে ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর সাংস্কৃতিক দল সহ সংগঠণ। মেলায় রয়েছে নাগরদোলা, দোলনা, চরকি, ক্ষুদে রেলগাড়ি সহ আবহমান বাংলার বিনোদন উপকরণ।
নববর্ষে নিজস্ব ব্যবস্থাপনায়  দই,চিড়া,নাড়–,মুড়ি,মুড়কি,সজনে ডাঁটা, আলু ভাজা, পেঁয়াজ-কাঁচা মরিচ দিয়ে  মাটির  বাসনে পান্তা খাবার আয়োজন  করে অনেক সংগঠন। ইলিশ,মাংস,মাছ আয়োজন ছিল  সীমিত।
বৈশাখের প্রথম দিনে বেড়ানোর স্থানগুলোতেও দিনব্যাপী ভিড় ছিল।  প্রচন্ড গরমেও জেলার সড়কগুলো জনরাণ্যে পরিনত হয়। অনুষ্ঠানগুলোতে যোগ দেন জেলা প্রশাসক আবু  ছালেহ মো. মুসা জঙ্গী,পুলিশ সুপার গৌতম কুমার বিশ^াস সহ সরকারি বেসরকারি কর্মকর্তারা।