বৈরুতে রক্তঝড়: নির্বিচার হামলায় ক্ষোভ,মানবিক বিপর্যয়ের সতর্কবার্তা রেড ক্রসের

  • আন্তর্জাতিক ডেস্ক
  • ২০২৬-০৪-০৯ ১৬:০৪:২৩
image

লেবাননের ঘনবসতিপূর্ণ এলাকাজুড়ে ব্যাপক প্রাণহানি ও ধ্বংসযজ্ঞে গভীর উদ্বেগ জানিয়েছে International Committee of the Red Cross। বুধবার ইসরাইলের নজিরবিহীন হামলার পর পরিস্থিতিকে ‘মানবিক বিপর্যয়ের দ্বারপ্রান্ত’ হিসেবে আখ্যা দিয়েছে সংস্থাটি।
জেনেভা থেকে বার্তা সংস্থা এএফপি জানায়, আইসিআরসি এক বিবৃতিতে বলেছে-কার্যকর কোনো পূর্ব সতর্কতা ছাড়াই উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন বিস্ফোরক অস্ত্র ব্যবহার করে রাজধানী Beirutসহ জনবহুল এলাকায় হামলা চালানো হয়েছে, যা আন্তর্জাতিক মানবিক আইনের গুরুতর প্রশ্ন তুলেছে।
লেবাননে আইসিআরসি’র প্রধান Agnès Dhur বলেন, দেশজুড়ে মানুষ যখন যুদ্ধবিরতির আশায় ছিল, তখনই এই প্রাণঘাতী হামলা নতুন করে আতঙ্ক ও বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করেছে। তার ভাষায়, যারা ঘরে ফেরার স্বপ্ন দেখছিলেন, তারা এখন নিখোঁজ স্বজনের খোঁজে কিংবা নিরাপত্তার সন্ধানে হাসপাতাল ও রাস্তায় ছুটছেন।
লেবাননের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, এ হামলায় অন্তত ১৮২ জন নিহত এবং ৮৯০ জন আহত হয়েছেন। তবে হতাহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
সংস্থাটি জানায়, দেশজুড়ে লেবানিজ রেড ক্রস জরুরি সেবায় ১০০টি অ্যাম্বুলেন্স মোতায়েন করেছে। ইতোমধ্যেই সীমিত সক্ষমতার হাসপাতালগুলোতে আহতদের চাপ সামাল দেওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে। অনেক মানুষ এখনো ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকে থাকার আশঙ্কা রয়েছে।
জেনেভাভিত্তিক আইসিআরসি আরও বলেছে, এই অঞ্চলে যেকোনো সমন্বিত শান্তি চুক্তিতে লেবাননের বেসামরিক জনগণের নিরাপত্তা, সুরক্ষা ও মর্যাদা নিশ্চিত করা জরুরি। পাঁচ সপ্তাহের বেশি সময় ধরে চলা সংঘাতের পর সাধারণ মানুষ এখন সহিংসতা থেকে অবিলম্বে মুক্তি চায়।
অন্যদিকে, Doctors Without Borders জানিয়েছে, বৈরুতের Rafik Hariri University Hospital-এ তাদের চিকিৎসক দল বিপুলসংখ্যক আহত রোগীর চিকিৎসা দিচ্ছে, যাদের মধ্যে শিশুও রয়েছে।
সংস্থাটির জরুরি সমন্বয়ক Christopher Stokes বলেন, অধিকাংশ রোগী স্প্লিন্টারের আঘাত ও অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ নিয়ে হাসপাতালে আসছে। অনেকের অবস্থা আশঙ্কাজনক—কেউ কেউ গুরুতর অঙ্গহানির শিকার হয়েছেন। পরিস্থিতি ক্রমেই বিশৃঙ্খল হয়ে উঠছে।
তিনি আরও বলেন, ঘনবসতিপূর্ণ এলাকায় নির্বিচারে এই ধরনের হামলা সম্পূর্ণ অগ্রহণযোগ্য এবং বেসামরিক মানুষের ওপর ধারাবাহিক হামলা অবিলম্বে বন্ধ করতে হবে। জোরপূর্বক স্থানচ্যুতি আন্তর্জাতিক আইনে যুদ্ধাপরাধ হিসেবে গণ্য-এ ধরনের কর্মকাণ্ড বন্ধে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কার্যকর পদক্ষেপ জরুরি।
উল্লেখ্য, গত ২ মার্চ তেহরান-সমর্থিত গোষ্ঠী Hezbollah ইসরাইলে রকেট হামলা শুরু করলে লেবানন এই সংঘাতে জড়িয়ে পড়ে। এরপর থেকেই অঞ্চলজুড়ে উত্তেজনা ক্রমাগত বেড়েই চলেছে।

কী-ওয়ার্ড: বৈরুত হামলা,মানবিক সংকট,রেড ক্রস