হরমুজ ঘিরে শর্তসাপেক্ষ যুদ্ধবিরতি: পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় দুই সপ্তাহের বিরতিতে সম্মত যুক্তরাষ্ট্র-ইর

  • আন্তর্জাতিক ডেস্ক
  • ২০২৬-০৪-০৮ ০৮:৪৮:০৫
image

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান তীব্র সংঘাতের প্রেক্ষাপটে এক নাটকীয় কূটনৈতিক মোড় তৈরি হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট Donald Trump ইরানের ওপর পূর্বঘোষিত বড় ধরনের সামরিক হামলা অন্তত দুই সপ্তাহের জন্য স্থগিত করতে সম্মত হয়েছেন। পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী Shehbaz Sharif-এর বিশেষ অনুরোধে নেওয়া এই সিদ্ধান্ত আঞ্চলিক উত্তেজনা সাময়িকভাবে প্রশমনের ইঙ্গিত দিচ্ছে।
মঙ্গলবার ট্রাম্প তার মালিকানাধীন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বিবৃতিতে জানান, একটি শর্তসাপেক্ষ ‘উভয়মুখী যুদ্ধবিরতি’ কার্যকর হতে যাচ্ছে। তবে এর প্রধান শর্ত হিসেবে ইরানকে আন্তর্জাতিক গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ Strait of Hormuz অবিলম্বে এবং নিরাপদভাবে জাহাজ চলাচলের জন্য উন্মুক্ত করে দিতে হবে।
এই ঘোষণার পেছনে পাকিস্তানের কূটনৈতিক তৎপরতার বড় ভূমিকা রয়েছে বলে নিজেই উল্লেখ করেন ট্রাম্প। তিনি জানান, ইসলামাবাদের পক্ষ থেকে অনুরোধের পাশাপাশি ইরানের দেওয়া ১০ দফা প্রস্তাব বিবেচনায় নিয়ে এই সাময়িক স্থগিতাদেশে সম্মতি দেওয়া হয়েছে। এর মাধ্যমে আলোচনার একটি কার্যকর ভিত্তি তৈরি হতে পারে বলেও তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
এদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের এ সিদ্ধান্তের পর ইসরায়েলও একই ধরনের সাময়িক যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়েছে বলে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে খবর প্রকাশিত হয়েছে। যদিও আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো পক্ষই এখনো স্পষ্ট ঘোষণা দেয়নি, তবে কূটনৈতিক সূত্রগুলো বলছে—হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়া হলে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হবে।
অন্যদিকে, ইরানও এই চুক্তিতে সম্মতি দিয়েছে বলে নিশ্চিত করেছে দেশটির সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী সংস্থা। এক বিবৃতিতে জানানো হয়, নতুন সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ মোজতবা খামেনির অনুমোদনেই এই সিদ্ধান্ত কার্যকর হচ্ছে। ইরানের পক্ষ থেকে এই চুক্তিকে একটি কৌশলগত সফলতা হিসেবেও তুলে ধরা হয়েছে।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, এই দুই সপ্তাহের বিরতির পর একটি স্থায়ী শান্তি চুক্তির লক্ষ্যে পরবর্তী দফার আলোচনা পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে অনুষ্ঠিত হতে পারে। ফলে সাময়িক এই যুদ্ধবিরতি মধ্যপ্রাচ্যে দীর্ঘমেয়াদি স্থিতিশীলতার পথে একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
বিশ্লেষকদের মতে, হরমুজ প্রণালি—যা বিশ্ব জ্বালানি সরবরাহের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ রুট—খুলে দেওয়ার বিষয়টি শুধু সামরিক নয়, অর্থনৈতিক দিক থেকেও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এই প্রণালি ঘিরে উত্তেজনা কমলে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারেও ইতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।
যদিও পরিস্থিতি এখনো পুরোপুরি স্বাভাবিক হয়নি, তবুও এই সাময়িক যুদ্ধবিরতি মধ্যপ্রাচ্যের উত্তপ্ত পরিস্থিতিতে কিছুটা স্বস্তির বার্তা দিচ্ছে।

কী-ওয়ার্ড: হরমুজ প্রণালি,যুদ্ধবিরতি,মধ্যপ্রাচ্য সংঘাত