রাষ্ট্রীয় নীতিনির্ধারণে বেসরকারি খাতের সরাসরি অংশগ্রহণ,প্রধানমন্ত্রীর নতুন উদ্যোগে যুগান্তকারী সূচনা

  • সকালের আলো প্রতিবেদক
  • ২০২৬-০৪-০৪ ২১:২৬:৩০
image

দেশের অর্থনীতি ও বিনিয়োগ পরিবেশকে আরও গতিশীল করতে প্রথমবারের মতো বেসরকারি খাতকে সরাসরি নীতিনির্ধারণ প্রক্রিয়ায় যুক্ত করলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তার সভাপতিত্বে আজ সকাল সাড়ে ১১টায় তেজগাঁওয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত হয়েছে বেসরকারি খাত উপদেষ্টা পরিষদের প্রথম বৈঠক।
বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, দেশের ইতিহাসে এই প্রথম এমন একটি উচ্চপর্যায়ের উপদেষ্টা পরিষদ গঠন করা হলো, যেখানে ব্যবসায়ী নেতারা সরাসরি সরকারের সর্বোচ্চ পর্যায়ে মতামত দেওয়ার সুযোগ পাচ্ছেন। এই উদ্যোগকে ব্যবসা-বান্ধব পরিবেশ তৈরির ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে দেখা হচ্ছে।
নবগঠিত এই পরিষদে দেশের শীর্ষ শিল্প ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা অন্তর্ভুক্ত হয়েছেন। তারা ব্যবসা, বিনিয়োগ, করনীতি, জ্বালানি, মানবসম্পদ উন্নয়ন, লজিস্টিকস এবং রপ্তানি বৈচিত্র্যকরণসহ গুরুত্বপূর্ণ খাতগুলোতে সরকারের সঙ্গে সমন্বিতভাবে কাজ করবেন।
বৈঠকে অর্থমন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ, বাণিজ্য মন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির এবং প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিতসহ সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মাহদী আমিন এবং বিডা চেয়ারম্যান চৌধুরী আশিক মাহমুদ বিন হারুন সভায় অংশ নেন।
সভায় উদ্বোধনী বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বেসরকারি খাতকে দেশের অর্থনীতির চালিকাশক্তি হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, টেকসই উন্নয়ন ও বৈশ্বিক প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে হলে সরকার ও ব্যবসায়ী সমাজের মধ্যে আরও ঘনিষ্ঠ সমন্বয় প্রয়োজন। তিনি পরিষদের সদস্যদের আন্তর্জাতিক মানদণ্ড পর্যালোচনা করে তথ্য-প্রমাণভিত্তিক সুপারিশ দেওয়ার আহ্বান জানান।
এরপর অনুষ্ঠিত উন্মুক্ত আলোচনায় ব্যবসায়ী নেতারা নিয়ন্ত্রণমূলক পরিবেশ, জ্বালানি সংকট, করনীতি, বিনিয়োগ প্রতিবন্ধকতা এবং সরাসরি বৈদেশিক বিনিয়োগ বাড়ানোর কৌশল নিয়ে মতামত দেন। তারা সরকারের এই উদ্যোগকে সময়োপযোগী এবং বাস্তবমুখী বলে অভিহিত করেন।
বৈঠকের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, পরিষদ শিগগিরই একটি সমন্বিত প্রস্তাবনা তৈরি করবে, যেখানে ব্যবসা ও বিনিয়োগ পরিবেশ উন্নয়নে সুনির্দিষ্ট কর্মপরিকল্পনা তুলে ধরা হবে। এই পরিকল্পনা বাস্তবায়নে সমন্বয়কারী হিসেবে কাজ করবে বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ।
বিডা চেয়ারম্যান আশিক মাহমুদ বিন হারুন বলেন, বেসরকারি খাতের জন্য একটি কাঠামোবদ্ধ মতামত প্রদানের প্ল্যাটফর্ম তৈরি করাই ছিল তাদের লক্ষ্য, যা এই পরিষদ গঠনের মাধ্যমে বাস্তবায়িত হয়েছে।
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, সরকারের এই পদক্ষেপ কার্যকরভাবে বাস্তবায়িত হলে দেশের বিনিয়োগ পরিবেশে ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে এবং অর্থনীতির প্রবৃদ্ধি আরও ত্বরান্বিত হবে।

কী-ওয়ার্ড: বেসরকারি খাত,বিনিয়োগ নীতি,অর্থনৈতিক সংস্কার