ঈদযাত্রাকে ঘিরে গত ১৫ দিনে দেশের সড়ক পরিস্থিতি ভয়াবহ রূপ নিয়েছে। ১৪ থেকে ২৮ মার্চ পর্যন্ত সারা দেশে ৩৪৬টি সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন ৩৫১ জন, যা প্রতিদিন গড়ে প্রায় ২০ জন মৃত্যুর সমান।
বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) রোড সেফটি ফাউন্ডেশন-এর নির্বাহী পরিচালক সাইদুর রহমান স্বাক্ষরিত এক প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানানো হয়।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই সময়ে আহত হয়েছেন দুই হাজারের বেশি মানুষ। নিহতদের মধ্যে ৪৬ জন নারী এবং ৬৭ জন শিশু রয়েছেন, যা পরিস্থিতির মানবিক দিকটিকে আরও গভীরভাবে সামনে নিয়ে এসেছে।
দুর্ঘটনার ধরন বিশ্লেষণে দেখা গেছে, মোটরসাইকেল দুর্ঘটনাই সবচেয়ে বেশি প্রাণ কেড়েছে। ১৪৩টি মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় নিহত হয়েছেন ১১৬ জন, যা মোট মৃত্যুর প্রায় ৩৯ শতাংশ। এছাড়া পথচারী নিহত হয়েছেন ৪৭ জন এবং চালক ও সহকারী মিলে প্রাণ হারিয়েছেন ৩৬ জন।
যানবাহনভিত্তিক পরিসংখ্যানে বাস দুর্ঘটনায় ৪১ জন, থ্রি-হুইলারে ৫০ জন এবং প্রাইভেট কার বা মাইক্রোবাসে ২০ জন নিহত হয়েছেন।
সড়কের ধরন অনুযায়ী সবচেয়ে বেশি দুর্ঘটনা ঘটেছে আঞ্চলিক সড়কে, যেখানে ১৬১টি দুর্ঘটনা রেকর্ড করা হয়েছে। জাতীয় মহাসড়কে ১১৫টি, গ্রামীণ সড়কে ৪৮টি এবং শহরের সড়কে ৪২টি দুর্ঘটনা ঘটেছে।
দুর্ঘটনার কারণ হিসেবে সবচেয়ে বেশি ১৫২টি ঘটনায় যানবাহনের নিয়ন্ত্রণ হারানোকে দায়ী করা হয়েছে। এছাড়া ৯৬টি মুখোমুখি সংঘর্ষ, ৪৯টি পথচারীকে চাপা দেওয়া এবং ৬৮টি পেছন থেকে ধাক্কার ঘটনা রয়েছে।
এ সময় সড়কের পাশাপাশি অন্যান্য পরিবহন খাতেও দুর্ঘটনা ঘটেছে। ১১টি নৌ দুর্ঘটনায় ৯ জন নিহত, ২৩ জন আহত এবং ২ জন নিখোঁজ রয়েছেন। অন্যদিকে ২৯টি রেল দুর্ঘটনায় প্রাণ গেছে ৪১ জনের, আহত হয়েছেন ২০৯ জন।
প্রতিবেদনটি জাতীয় অর্থোপেডিক হাসপাতাল, ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল এবং বিভিন্ন গণমাধ্যমের তথ্যের ভিত্তিতে প্রস্তুত করা হয়েছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সড়কে শৃঙ্খলা ও সচেতনতার ঘাটতি দূর না হলে এ ধরনের প্রাণহানি রোধ করা কঠিন হয়ে পড়বে।
কী-ওয়ার্ডস: সড়ক দুর্ঘটনা,ঈদযাত্রা,প্রাণহানি