জাতীয় সংসদে রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর ধন্যবাদ প্রস্তাব নিয়ে আলোচনায় বর্তমান সরকার ও পূর্ববর্তী সরকারের কর্মকাণ্ড নিয়ে তীব্র রাজনৈতিক বিতর্ক দেখা গেছে। ক্ষমতাসীন দলের সংসদ সদস্যরা দাবি করেছেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান-এর নেতৃত্বে সরকার জনগণের বাস্তব উন্নয়নে কাজ করছে, যেখানে আগের সরকার উন্নয়নের নামে দুর্নীতিতে জড়িত ছিল।
রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন-এর ভাষণের মাধ্যমে গত ১২ মার্চ ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশন শুরু হয়। পরবর্তীতে কার্য উপদেষ্টা কমিটি এ বিষয়ে আলোচনার জন্য ৫০ ঘণ্টা সময় নির্ধারণ করে। বিরতির পর ২৯ মার্চ পুনরায় অধিবেশন শুরু হলে দ্বিতীয় দিনের আলোচনায় অংশ নেন বিভিন্ন দলের সংসদ সদস্যরা।
চিফ হুইপ মো. নূরুল ইসলাম ধন্যবাদ প্রস্তাব উত্থাপন করেন, যা সমর্থন করেন হুইপ মিয়া নূরুদ্দিন আহমেদ অপু। আলোচনায় অংশ নিয়ে সরকার দলীয় সদস্যরা বলেন, বর্তমান সরকার সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি সম্প্রসারণ এবং জনকল্যাণমূলক উদ্যোগ বাস্তবায়নে কাজ করছে।
ঢাকা-১ আসনের সংসদ সদস্য খন্দকার মোহাম্মদ আবু আশফাক জানান, সরকারের উদ্যোগে ইতোমধ্যে হাজারো পরিবারের মধ্যে ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ করা হয়েছে এবং পর্যায়ক্রমে তা সারা দেশে সম্প্রসারণ করা হবে। পাশাপাশি ইমামদের জন্য ভাতা চালু এবং কৃষকদের জন্য ‘কৃষক কার্ড’ চালুর পরিকল্পনার কথাও তুলে ধরেন তিনি।
চট্টগ্রাম-১০ আসনের সংসদ সদস্য সাঈদ আল নোমান বলেন, চট্টগ্রামকে বাণিজ্যিক রাজধানী হিসেবে গড়ে তোলার উদ্যোগ নতুন করে বাস্তবায়নের সুযোগ তৈরি হয়েছে। তিনি অতীতের আন্দোলনে প্রাণ হারানো নেতাকর্মীদের স্মরণ করেন এবং তাদের অবদানের কথা তুলে ধরেন।
এদিন আলোচনায় আরও অংশ নেন নোয়াখালী, নাটোর ও সিলেটের সংসদ সদস্যরা। তারা দেশের উন্নয়ন, অর্থনীতি ও রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে নিজেদের মতামত তুলে ধরেন।
সংসদে এই আলোচনাকে কেন্দ্র করে সরকার ও বিরোধী পক্ষের মধ্যে রাজনৈতিক অবস্থান স্পষ্টভাবে সামনে এসেছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
কী-ওয়ার্ডস:সংসদ বিতর্ক,সরকার উন্নয়ন দাবি,রাষ্ট্রপতির ভাষণ