ঈদের ২৪ ঘণ্টায় ১৫ জেলায় ৩২ প্রাণহানি: উৎসবের আনন্দে রক্তাক্ত সড়ক

  • ডেস্ক রিপোর্ট
  • ২০২৬-০৩-২২ ১৩:৪৪:৪৭
image

পবিত্র ঈদুল ফিতর-এর আনন্দের মাঝেই দেশে সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণহানির মর্মান্তিক চিত্র উঠে এসেছে। ঈদের দিন সকাল ৮টা থেকে পরদিন সকাল ৮টা পর্যন্ত গত ২৪ ঘণ্টায় দেশের ১৫ জেলায় সড়ক দুর্ঘটনায় অন্তত ৩২ জন নিহত হয়েছেন। এসব ঘটনায় শতাধিক মানুষ আহত হয়েছেন।
দেশের বিভিন্ন জেলা প্রতিনিধি সূত্রে জানা যায়, সবচেয়ে ভয়াবহ দুর্ঘটনা ঘটেছে কুমিল্লা-য়। ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের পদুয়ার বাজার বিশ্বরোড এলাকায় রেলক্রসিংয়ে যাত্রীবাহী বাসের সঙ্গে ট্রেনের সংঘর্ষে অন্তত ১২ জন নিহত হন। আহত হয়েছেন আরও অনেকে। অভিযোগ উঠেছে, দুর্ঘটনার সময় রেলগেট নামানো ছিল না।
ফেনী-তে বাস, অ্যাম্বুলেন্স ও মোটরসাইকেলের ত্রিমুখী সংঘর্ষে ৩ জন নিহত হন। মহাসড়কে যানজটের মধ্যে বেপরোয়া গতির বাস ঢুকে পড়ায় এই দুর্ঘটনা ঘটে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
হবিগঞ্জ-এর মাধবপুরে পিকআপ ভ্যান খাদে পড়ে ৪ জন নিহত হয়েছেন। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে বা অন্য কোনো যানবাহনের ধাক্কায় এই দুর্ঘটনা ঘটে।
এছাড়া ময়মনসিংহ ও নাটোর-এ পৃথক দুর্ঘটনায় ২ জন করে নিহত হয়েছেন। চট্টগ্রাম-এর পটিয়া ও মিরসরাই এলাকায় ২ জনের মৃত্যু হয়েছে।
অন্যদিকে ঝিনাইদহ, নড়াইল, চুয়াডাঙ্গা, ফরিদপুর, নারায়ণগঞ্জ, গোপালগঞ্জ ও মাদারীপুর-এ একাধিক সড়ক দুর্ঘটনায় একজন করে নিহত হয়েছেন।
এছাড়া বান্দরবান-এ পর্যটকবাহী বাস খাদে পড়ে অন্তত ২০ জন আহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা গুরুতর।
এই ধারাবাহিক দুর্ঘটনা আবারও মনে করিয়ে দেয়—ঈদ মানেই কেবল আনন্দ নয়, বরং সড়কে বাড়তি ঝুঁকির সময়। গত বছরও ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আজহা-কে ঘিরে প্রায় ৭৫০ থেকে ৮০০ মানুষ প্রাণ হারিয়েছিলেন, যা পরিস্থিতির ভয়াবহতাকেই তুলে ধরে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অতিরিক্ত গতি, ক্লান্ত চালক, ফিটনেসবিহীন যানবাহন, অপরিকল্পিত রেলক্রসিং এবং দুর্বল তদারকি—এসব কারণ মিলেই ঈদযাত্রাকে ঝুঁকিপূর্ণ করে তুলছে।
সংশ্লিষ্টদের মতে, এখনই কঠোর ব্যবস্থা না নিলে এই প্রাণহানির মিছিল থামানো কঠিন হবে। কার্যকর আইন প্রয়োগ, চালকদের কর্মঘণ্টা নির্ধারণ, মহাসড়কে প্রযুক্তিনির্ভর নজরদারি এবং ঝুঁকিপূর্ণ পয়েন্টে নিরাপত্তা জোরদার করা জরুরি হয়ে পড়েছে।

কী-ওয়ার্ডস: ঈদ সড়ক দুর্ঘটনা,২৪ ঘণ্টায় ৩২ নিহত,সড়ক নিরাপত্তা সংকট