নিস্তব্ধ এক রাত নেমে আসে রমজানের শেষ প্রহরে,
শহরের কোলাহল ধীরে ধীরে থেমে যায়,
রাস্তাগুলো ফাঁকা হয়ে পড়ে,
কিন্তু মানুষের হৃদয়ে জেগে ওঠে
অদ্ভুত এক আলো।
এ যেন সাধারণ কোনো রাত নয়,
এ রাতের বাতাসে ভেসে থাকে
ক্ষমার আবেদন,
অনুতাপের দীর্ঘশ্বাস,
আর ফিরে আসার আকুলতা।
মানুষ তখন
নিজের ভেতরের আয়নায় তাকায়-
দেখে কত ভুল,
কত অবহেলা,
কত অব্যক্ত অপরাধের দাগ।
এই রাতের নাম
লাইলাতুল কদর।
একটি রাত,
যার নীরবতায় আকাশ খুলে যায়,
যেখানে ফেরেশতারা নেমে আসে
মানুষের প্রার্থনার সাক্ষী হতে।
হাজার মাসের চেয়েও উত্তম
এই এক রাত-
পবিত্র কোরআনের সেই ঘোষণা
আজও মানুষের হৃদয়ে
আলো জ্বেলে রাখে।
মসজিদের ভেতর তখন
সিজদায় নত অসংখ্য কপাল,
কেউ চোখ মুছে দোয়া করে,
কেউ চুপচাপ বসে থাকে
নিজের অতীতের হিসাব কষে।
কেউ মনে মনে বলে-
হে আল্লাহ,
আমি তো পথ হারিয়েছিলাম,
আমাকে আবার ফিরিয়ে নাও।
কেউ বলে-
আমার ভুলগুলো তুমি ক্ষমা করে দাও,
আমার অন্ধকারগুলোতে
তোমার রহমতের আলো দাও।
এই রাত
মানুষকে ছোট করে না,
বরং তাকে শেখায়
নম্রতা, অনুতাপ আর আশার ভাষা।
এ রাতেই
একজন কঠোর হৃদয়ের মানুষ
নরম হয়ে যায়,
একজন পথভ্রষ্ট মানুষ
ফিরে আসার সাহস পায়।
মায়ের দোয়া
সন্তানের ভবিষ্যতের জন্য,
বাবার নীরব প্রার্থনা
পরিবারের শান্তির জন্য-
সব মিলিয়ে রাতটি হয়ে ওঠে
মানবতার এক গভীর স্রোত।
কেউ কোরআন তিলাওয়াত করে,
কেউ তাহাজ্জুদের দীর্ঘ সিজদায়
অশ্রু ঝরায়।
কারণ মানুষ জানে-
এই রাতের দোয়া
ফিরিয়ে দেওয়া হয় না।
ভোরের আলো ফুটতে শুরু করলে
মনে হয়
রাতটি যেন খুব দ্রুত চলে গেল।
কিন্তু রেখে যায়
একটি অদ্ভুত প্রশান্তি।
মনে হয়-
হৃদয়ের ভেতরের ধুলোবালি
ধুয়ে গেছে অশ্রুর জলে।
লাইলাতুল কদর
শুধু একটি রাত নয়,
এটি মানুষের আত্মার পুনর্জন্ম।
এ রাত শেখায়-
ভুল করা মানুষ হওয়া লজ্জার নয়,
লজ্জার হলো
ক্ষমা চাইতে না পারা।
তাই প্রতি রমজানে
মানুষ আবার অপেক্ষা করে
এই পবিত্র রাতটির জন্য।
কারণ সে জানে-
অন্ধকার যত গভীরই হোক,
একটি রাত আছে
যেখানে আকাশের দরজা খোলা থাকে
মানুষের জন্য।