এ স এ ম আ জা দ হো সে ন

  • উদারতার অদৃশ্য আলো
  • ২০২৬-০৩-১২ ১০:৪২:৪৯
image

এই শহর খুব দ্রুত বদলে যায়-
রাস্তার মোড়ে মোড়ে নতুন সাইনবোর্ড ওঠে,
পুরোনো দোকান হারিয়ে যায় কংক্রিটের নিচে,
মানুষের মুখে মুখে জমে ওঠে ক্লান্তি,
আর সময়ের ভেতর জমে থাকে অদৃশ্য দূরত্ব।

এই ব্যস্ত পৃথিবীতে
উদারতা খুব বড় কোনো শব্দ নয়,
এটা কোনো বক্তৃতা নয়,
না কোনো মঞ্চে দাঁড়িয়ে বলা নীতিকথা।

উদারতা কখনও
একজন রিকশাওয়ালার ক্লান্ত মুখে
একটু বাড়তি ভাড়া তুলে দেওয়ার মতো,
কখনও ফুটপাতে বসা শিশুটির হাতে
একটা গরম রুটি তুলে দেওয়ার মতো।

উদারতা মানে
নিজের প্লেট থেকে অল্পটা সরিয়ে
অন্যের ক্ষুধা বুঝে নেওয়া।

একটা ভিড় বাসে
কেউ যখন নিজের সিট ছেড়ে দেয়
একজন বৃদ্ধ মানুষের জন্য-
সেই ছোট্ট মুহূর্তটাতেও
একটা আলোর জন্ম হয়।

আমরা ভাবি
উদার হতে হলে খুব ধনী হতে হয়,
অনেক ক্ষমতা লাগে,
বড় বড় কাজ করতে হয়।

কিন্তু সত্যিটা হলো-
উদারতা শুরু হয়
একটা ছোট সিদ্ধান্ত থেকে।

কারো ভুল ক্ষমা করা,
কারো দুঃখ শুনে নেওয়া,
কারো স্বপ্নে একটু সাহস ঢেলে দেওয়া-
এইসব ছোট ছোট কাজই
মানুষকে বড় করে।

একটা পৃথিবী কল্পনা করো
যেখানে মানুষ মানুষকে ঠেলে সরায় না,
বরং হাত বাড়িয়ে দাঁড় করায়।

যেখানে প্রতিযোগিতার চেয়ে
সহযোগিতার মূল্য বেশি,
যেখানে লাভের হিসাবের বাইরে
মানবতার একটা জায়গা থাকে।

উদারতা ঠিক নদীর মতো-
সে নিজের জন্য বয়ে যায় না,
পথে পথে তৃষ্ণা মেটায়,
শুকনো মাটিকে সবুজ করে তোলে।

আজকের পৃথিবীতে
যেখানে মানুষ একটু একটু করে
নিজের ভেতর দেয়াল তুলে ফেলছে,
সেখানে উদারতা
একটা জানালা খুলে দেওয়ার মতো।

যে জানালা দিয়ে
হাওয়া ঢোকে,
আলো ঢোকে,
আর মানুষ আবার মানুষ হয়ে ওঠে।

তাই উদারতা কোনো দান নয়,
এটা মানুষের ভেতরের
সবচেয়ে সুন্দর সাহস।

যে সাহস বলে-
আমার কাছে যতটুকু আছে
তার ভেতর থেকেও
আমি তোমার জন্য একটু জায়গা রাখব।

কারণ শেষ পর্যন্ত
এই পৃথিবী টিকে থাকে না
ক্ষমতা বা সম্পদের ওপর-
এটা টিকে থাকে
মানুষের ভেতরে লুকিয়ে থাকা
সেই অদৃশ্য
উদারতার আলোয়।