আমি একদিন বুঝলাম-
নিজের ভেতরেই একটা অচেনা শহর আছে,
যেখানে প্রতিদিন সূর্য ওঠে সন্দেহের জানালায়,
আর রাত নামে অপূর্ণ স্বপ্নের ছাদের উপর।
বছরের পর বছর
আমি অন্যদের চোখে নিজের ছবি খুঁজেছি,
তাদের প্রশংসার আয়নায়
নিজেকে সুন্দর ভেবেছি,
তাদের সমালোচনার ধুলোয়
নিজেকে ছোট করেছি।
কিন্তু একদিন
হঠাৎ নীরব দুপুরে
আমি নিজের ভেতর বসে রইলাম-
কোনো শব্দ নেই,
কোনো অভিনয় নেই,
শুধু আমি আর আমার নিঃশ্বাস।
সেই নীরবতায়
আমি শুনলাম এক অদ্ভুত সত্য-
আমি আসলে কোনো গল্পের পার্শ্বচরিত্র নই,
আমি আমার জীবনের একমাত্র লেখক।
আমার ভুলগুলো
কোনো পরাজয়ের চিহ্ন নয়,
ওগুলো আমার মানচিত্র-
যেখানে প্রতিটি ভুল রাস্তা
আমাকে একটু একটু করে
নিজের কাছে ফিরিয়ে এনেছে।
আমি বুঝলাম,
মানুষের ভিড়ে দাঁড়িয়ে থেকেও
অনেকেই একা হয়ে যায়,
কারণ তারা নিজের ভেতরের মানুষটার সাথে
কখনো পরিচয় করে না।
আমরা দৌড়াই-
চাকরি,টাকা,পরিচয়, প্রশংসা
আর হাজারো কোলাহলের পেছনে।
কিন্তু কেউ শেখায় না
নিজের হৃদয়ের শব্দ শুনতে।
সেদিন আমি থামলাম।
জীবনের ভিড় থেকে একটু সরে দাঁড়িয়ে
নিজেকে জিজ্ঞেস করলাম-
'তুমি আসলে কী চাও?'
উত্তরটা খুব জটিল ছিল না-
আমি শুধু শান্তি চাই,
একটা সৎ সকাল,
একটা নির্ভার বিকেল,
আর এমন কিছু স্বপ্ন
যেগুলো অন্য কারও করতালির জন্য নয়।
সেই দিন থেকেই
আমি একটু একটু করে বদলাতে শুরু করলাম।
মানুষের মতামতের পাহাড়
আমার পথ আটকে রাখতে পারল না।
আমি শিখলাম-
নিজেকে মেনে নেওয়াটাই
সবচেয়ে বড় সাহস।
এখন যখন আয়নায় তাকাই
আমি আর নিখুঁত মানুষ খুঁজি না,
আমি খুঁজি সত্যিকারের মানুষ।
যে মানুষটা জানে-
ভুল করবে, শিখবে,
হয়তো আবার ভাঙবে,
কিন্তু প্রতিবারই
নিজের ভেতর থেকে নতুন করে দাঁড়াবে।
কারণ শেষ পর্যন্ত
জীবনের সবচেয়ে বড় আবিষ্কার
কোনো শহর, কোনো গ্রহ নয়-
সবচেয়ে বড় আবিষ্কার হলো
নিজেকে খুঁজে পাওয়া।
এটাই আমার
আত্ম-উপলব্ধি।