জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় দেশে তেল বিক্রিতে রেশনিং শুরু

  • সকালের আলো প্রতিবেদক
  • ২০২৬-০৩-০৮ ১০:৪৫:৫৪
image

দেশে সম্ভাব্য দীর্ঘমেয়াদী জ্বালানি সংকট এড়াতে আনুষ্ঠানিকভাবে তেল বিক্রিতে রেশনিং পদ্ধতি চালু করেছে সরকার। রোববার (৮ মার্চ) সকাল থেকে নির্ধারিত সীমা অনুযায়ী জ্বালানি তেল বিক্রি শুরু হয়েছে দেশের বিভিন্ন পেট্রোল পাম্পে।

রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থা Bangladesh Petroleum Corporation (বিপিসি) নির্দিষ্ট যানের ধরন অনুযায়ী তেলের পরিমাণ নির্ধারণ করে দিয়েছে। নতুন এই ব্যবস্থার আওতায় একটি মোটরসাইকেল দিনে সর্বোচ্চ ২ লিটার পেট্রল বা অকটেন সংগ্রহ করতে পারবে। ব্যক্তিগত গাড়ির ক্ষেত্রে দৈনিক সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে ১০ লিটার।
অন্যদিকে স্পোর্টস ইউটিলিটি ভেহিক্যাল (এসইউভি), জিপ ও মাইক্রোবাসের জন্য প্রতিদিন ২০ থেকে ২৫ লিটার পর্যন্ত জ্বালানি বরাদ্দ রাখা হয়েছে।
পরিবহন খাতের জন্য ডিজেল সরবরাহেও একই ধরনের রেশনিং ব্যবস্থা চালু হয়েছে। স্থানীয় রুটে চলাচলকারী বাস বা পিকআপ ভ্যান প্রতিদিন ৭০ থেকে ৮০ লিটার ডিজেল নিতে পারবে। দূরপাল্লার বাস, ট্রাক, কাভার্ড ভ্যান এবং কনটেইনারবাহী ট্রাকের জন্য দৈনিক ২০০ থেকে ২২০ লিটার ডিজেল বরাদ্দ করা হয়েছে।
সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতি থেকে তৈরি হওয়া অনিশ্চয়তা মোকাবিলায় আগাম সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
এর আগে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রী Iqbal Hasan Mahmud Tuku এবং প্রতিমন্ত্রী Anindya Islam Amit পেট্রোল পাম্পগুলোকে নতুন পদ্ধতি বাস্তবায়নে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেন।
নতুন জ্বালানি বণ্টন ব্যবস্থা তদারকি করতে রোববার থেকেই সারাদেশে মোবাইল কোর্ট পরিচালনার কথা জানিয়েছেন জ্বালানি মন্ত্রী। তিনি বলেন, দেশে জ্বালানি তেলের পর্যাপ্ত মজুত রয়েছে এবং আগামী ৯ মার্চ আরও দুটি তেলবাহী জাহাজ বন্দরে পৌঁছানোর কথা রয়েছে।
সরকারের মতে, কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি বা পাম্পগুলোর অনিয়ম ঠেকাতেই এই কঠোর নজরদারি চালানো হবে।
গত কয়েকদিন ধরে দেশের বিভিন্ন পেট্রোল পাম্পে তেল সংগ্রহের জন্য দীর্ঘ সারি দেখা গেছে। এতে সাধারণ মানুষের মধ্যে উদ্বেগও তৈরি হয়। পরিস্থিতি সামাল দিতে সরকার বারবার আশ্বস্ত করছে যে দেশে তেলের ঘাটতি নেই।
এদিকে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, রেশনিং ব্যবস্থার আওতায় পাম্পগুলো যাতে নির্ধারিত সীমার বেশি তেল বিক্রি না করে এবং কোনো ধরনের বৈষম্য না ঘটে, সে বিষয়েও কঠোর নজরদারি রাখা হবে।

কীওয়ার্ডঃজ্বালানি তেল রেশনিং,বিপিসি তেল সরবরাহ,বাংলাদেশ জ্বালানি সংকট