তোমার নয়নদ্বয়--নীলিমার নিবাস,
নাকি নীল-বিষের নিভৃত আধার?
চেয়ে থাকি অবিরাম, কিছু বলো না তবু--
অমৃতও পাই, দহনও ধার।
অধর তব বেণুকার মৃদু সুর,
নাকি রণভেরীর রক্তিম ডাক?
এক চুম্বনে বসন্ত নেমে আসে,
আরেকটিতে হৃদয় পড়ে ফাঁক।
প্রেম বলো লীলা--দিব্য অভিনয়,
আমি ভাবি, এ কি লীলার সমাপন?
হাসি তব পূর্ণিমা-চন্দ্রসম,
তবু অন্তরে জাগে গোপন গ্রহণ।
কেশ তব ঘনশ্যাম মেঘমালা,
বর্ষাও আঁধার, বর্ষাও আলো;
আমি কহি, “থাকো না পাশে একটু”--
তুমি হাসো, “এত গম্ভীর কেন, যাও।”
স্পর্শ তব তপস্যার পরিণতি,
নাকি তপেরই সুপ্ত দাহ?
যে করাঘাতে প্রাণ জেগে ওঠে,
সেই আঘাতেই আবার বিরহ-চাহ।
তোমার নাম মন্ত্রসম উচ্চারিত,
জপে মেলে শান্তির পথ;
ভুলিতে চাইলে দেখি হায়--
ওই নামেই বাঁধা যত রথ।
তুমি মোর চিত্তাকাশে ধ্রুবতারা,
অচঞ্চল, অনাদি, অনাহত দীপ;
তবু হঠাৎ নিরুদ্দেশ হয়ে গেলে--
নিভে গিয়ে জ্বলে ওঠে দুটি দীপ।
প্রণয় কি তবে মুক্তির সোপান,
নাকি মায়ার সুদীর্ঘ ফাঁদ?
তুমি বলো, “হালকাভাবে নাও”--
আমি তবু করি তাকে সাধ।