টানা দশম বছর কমল জন্মহার,‘নীরব জাতীয় জরুরি অবস্থা’ বলছেন তাকাইচি

  • আন্তর্জাতিক ডেস্ক
  • ২০২৬-০২-২৬ ২২:২৬:৫২
image

টানা দশম বছরের মতো জাপানে জন্মসংখ্যা কমেছে। বৃহস্পতিবার প্রকাশিত সরকারি প্রাথমিক পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, ২০২৫ সালে দেশটিতে জন্ম নিয়েছে ৭ লাখ ৫ হাজার ৮০৯ শিশু—যা আগের বছরের তুলনায় ২ দশমিক ১ শতাংশ কম। এই প্রবণতা প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচি-র সামনে জনসংখ্যা সংকটের চ্যালেঞ্জ আরও স্পষ্ট করে তুলেছে।
টোকিও থেকে প্রকাশিত বার্তায় এ তথ্য জানিয়েছে Agence France-Presse (এএফপি)। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, এ পরিসংখ্যানে জাপানি নাগরিকদের সন্তান, জাপানে জন্ম নেওয়া বিদেশিদের সন্তান এবং বিদেশে জন্ম নেওয়া জাপানি নাগরিকদের সন্তান-সবাই অন্তর্ভুক্ত।
বিশ্বের চতুর্থ বৃহত্তম অর্থনীতির দেশ জাপান-এ জন্মহার বিশ্বের অন্যতম নিম্নস্তরে অবস্থান করছে। ফলে দেশটির জনসংখ্যা ধারাবাহিকভাবে সঙ্কুচিত হচ্ছে। এর প্রভাবে শ্রমশক্তির ঘাটতি, সামাজিক নিরাপত্তা ব্যয়ের চাপ এবং করদাতা কর্মজীবী মানুষের সংখ্যা হ্রাস-এসব সমস্যা তীব্র আকার নিচ্ছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, জনসংখ্যা হ্রাসের প্রভাব দেশটির ঋণ পরিস্থিতিকেও জটিল করে তুলছে। প্রধান অর্থনীতিগুলোর মধ্যে জাপানের ঋণ-জিডিপি অনুপাত ইতোমধ্যেই সর্বোচ্চ পর্যায়ে রয়েছে।
সম্প্রতি পার্লামেন্টে তাকাইচি হ্রাসমান জন্মহার ও সঙ্কুচিত জনসংখ্যাকে ‘নীরব জাতীয় জরুরি অবস্থা’ আখ্যা দিয়ে বলেন, এটি ধীরে ধীরে দেশের প্রাণশক্তিকে ক্ষয় করছে। তার নেতৃত্বাধীন লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টি (এলডিপি) ৮ ফেব্রুয়ারির আগাম নির্বাচনে দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করেছে।
বিশ্লেষকদের মতে, অভিবাসন বাড়ানো জনসংখ্যা ও শ্রমবাজার সংকট মোকাবিলায় সহায়ক হতে পারে। তবে ‘জাপানিজ ফার্স্ট’ নীতির সানসিতো পার্টি-র চাপের মুখে ডানপন্থী তাকাইচি অভিবাসন বিষয়ে আরও কঠোর অবস্থানের ইঙ্গিত দিয়েছেন।

কী-ওয়ার্ডস:জাপান জন্মহার,জনসংখ্যা সংকট,সানায়ে তাকাইচি