পিলখানা ট্র্যাজেডির ১৭ বছর: রক্তাক্ত স্মৃতি,বিচার এখনো অসম্পূর্ণ

  • সকালের আলো প্রতিবেদক
  • ২০২৬-০২-২৫ ১০:৩৬:৩০
image

তৎকালীন বিডিআর সদর দপ্তরে সংঘটিত নৃশংস হত্যাযজ্ঞের ১৭ বছর পূর্তি আজ। ২০০৯ সালের ২৫ ও ২৬ ফেব্রুয়ারি ঢাকার পিলখানায় সংঘটিত সেই বিদ্রোহ ও হত্যাকাণ্ড এখনো জাতির ইতিহাসে এক গভীর ক্ষত হয়ে আছে।
ওই দু’দিন তৎকালীন বাংলাদেশ রাইফেলস (বিডিআর) সদর দপ্তরে বিপথগামী সদস্যরা দাবি-দাওয়ার আড়ালে অগ্নিসংযোগ, লুটপাট ও হত্যাযজ্ঞ চালায়। এতে বিডিআরের মহাপরিচালকসহ ৫৭ জন সেনা কর্মকর্তা এবং নারী-শিশুসহ আরও ১৭ জন নিহত হন। পরবর্তীতে বাহিনীর নাম পরিবর্তন করে রাখা হয় বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ।
দীর্ঘ ১৭ বছর পরও নিহতদের স্বজনরা শোক কাটিয়ে উঠতে পারেননি। নানা কর্মসূচির মধ্য দিয়ে দিনটি স্মরণ করছেন সংশ্লিষ্টরা। সেনাবাহিনী ও বিভিন্ন সংগঠন শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাচ্ছে।
পিলখানা হত্যাকাণ্ডের মূল মামলার বিচার প্রক্রিয়া কয়েকটি ধাপ অতিক্রম করেছে। ২০১৩ সালের ৫ নভেম্বর বিচারিক আদালত ১৫২ জনকে মৃত্যুদণ্ড, ১৬০ জনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড এবং ২৫৬ জনকে বিভিন্ন মেয়াদে সাজা দেন। পরবর্তীতে হাইকোর্ট ১৩৯ জনের মৃত্যুদণ্ড বহাল রাখেন, ১৮৫ জনকে যাবজ্জীবন ও ২২৮ জনকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড দেন। সেই রায়ে ২৮৩ জন খালাস পান।
তবে বিস্ফোরক দ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে দায়ের করা মামলাটি এখনো বিচারিক প্রক্রিয়ায় রয়েছে। এ মামলায় প্রায় সাড়ে আটশ আসামি রয়েছেন। ১২০০ সাক্ষীর মধ্যে প্রায় ৩০০ জনের সাক্ষ্যগ্রহণ সম্পন্ন হয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, কয়েকজন গুরুত্বপূর্ণ সাক্ষীর জবানবন্দিতে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, শেখ ফজলে নূর তাপস, মির্জা আজম এবং জাহাঙ্গীর কবির নানক-সহ তৎকালীন কয়েকজন মন্ত্রী ও নেতার নাম উঠে এসেছে বলে চিফ প্রসিকিউটর উল্লেখ করেছেন। এ তথ্যের ভিত্তিতে তাদের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার প্রস্তুতির কথাও জানানো হয়েছে।
এদিকে সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর বিস্ফোরক মামলার কয়েকশ আসামি জামিন পেয়েছেন বলেও জানা গেছে। দীর্ঘ বিচার ও আপিল প্রক্রিয়ায় আসামি ও নিহতদের পরিবার-উভয় পক্ষই ধৈর্যের কঠিন পরীক্ষার মুখে রয়েছেন।
রক্তাক্ত পিলখানার সেই দিনগুলো আজও জাতিকে নাড়া দেয়। পূর্ণাঙ্গ ও দ্রুত বিচার সম্পন্ন করে ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার দাবি আবারও জোরালো হচ্ছে ১৭তম এই শোকাবহ দিনে।

কী-ওয়ার্ডস: পিলখানা ট্র্যাজেডি, বিডিআর বিদ্রোহ, বিস্ফোরক মামলা বিচার