চাঁপাইনবাবগঞ্জ সীমান্তের ওপারে গরু আনতে গিয়ে বাংলাদেশী নিখোঁজের অভিযোগ

  • জাকির হোসেন পিংকু
  • ২০২৬-০২-১৬ ২১:০২:২৯
image

চাঁপাইনবাবগঞ্জ প্রতিনিধি:
পদ্মা নদী পেরিয়ে চাঁপাইনবাবগঞ্জ সীমান্তের ওপারে ভারতে গরু আনতে গিয়ে আব্দুর রহিম(৪০) নামে এক বাংলাদেশী নিখোঁজ হয়েছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। রহিম জেলার শিবগঞ্জ উপজেলার দূর্লভপুর ইউনিয়নের ৮ নং ওয়ার্ডের ঘুঘুডাঙ্গা গ্রামের আকুমুদ্দিনের ছেলে। স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে,গত শুক্রবার(১৩ ফেব্রুয়ারী) বাড়ি থেকে বের হবার পর নিখোঁজ হন রহিম। পরে গত রোববার (১৫ ফেব্রুয়ারী) ভারত থেকে  ফেইইসবুকে সীমান্তবাসী জানতে পারেন, তিনি মারা গেছেন।  বিএসএফ’র হাতে রহিম মারা গেছে বলেও শোনা গেছে বলেও দাবি করেন সীমান্তবাসী জনপ্রতিনিধিরা। ফেইসবুকে তাঁর মরদেহের  নদীতে ভাসমান ছবিও দেখা গেছে বলে জানিয়েছেন তাঁরা।
এদিকে সোমবার(১৬ ফেব্রুয়ারী) শিবগঞ্জের পদ্মার ধারে তাঁর মরদেহ  পাওয়া গেছে বলে  নিজস্ব সূত্রে সংবাদ পেয়ে মরদেহ উদ্ধারে তৎপরতা শুরু করে শিবগঞ্জ পুলিশ ও রাজশাহীর গোদাগাড়ী নৌ পুলিশ। কিন্তু  রাত ৮টা পর্যন্ত মরদেহের সন্ধান পায় নি পুলিশ। রহিম সীমান্ত চোরাচালানে জড়িত ছিল বলে জানিয়েছে সূত্রগুলো।
দূর্লভপুর ইউপি চেয়ারম্যান গোলাম আজম বলেন, রোববার রহিমের নিখোঁজ হবার খবর জানতে পারি। সে সীমান্ত চোরচালান সংক্রান্ত ঘটনায় বিএসএফ’র হাতে মারা গেছে বলে শোনা গেছে।  সংশ্লিস্ট ইউপি ওযার্ড সদস্য আব্দুল গফুর বলেন, ফেইসবুকে জানতে পারি রহিম মারা গেছে। তাঁর লাশ নদীতে ভসিয়ে দেয়া হয়েছে। সংশ্লিস্ট গ্রাম পুলিশ  শাহিন কাদির বলেন,গরু চোরাচালানে গিয়ে নিখোঁজ রহিম মারা গেছে। লাশ  বাংলাদেশের  ভেতরে নদীর  ধারে পাওয়া গেছে বলে জানতে পেরেছি। রহিমের বাড়িতে তাঁর স্ত্রী,৪ ছেলে,১ মেয়ে রয়েছে।
শিবগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ(ওসি) হুমায়ন কবির বলেন, সোমবার বিকালে মরদেহ পাওয়ার সংবাদ পেয়ে সম্বাব্য স্থানগুলোতে সরেজমিনে খোঁজ করে মরদেহের সন্ধান মেলেনি। রহিমের বাড়ি গিয়েও তিনি নিখোঁজ ব্যতীত অন্য কোন সুনির্দিষ্ট তথ্য জানা যায় নি। নৌ পুলিশ পরিদর্শক তৌহিদুর রহমান বলেন,রোববার রাতে জানার পর থেকে মরদেহ খুঁজে পাওয়া যায় নি।  এ সব ঘটনায়  অনেক ক্ষেত্রে পরিবার ও সংশ্লিস্টরা গোপনীতা বজায় রাখে। এমন কি মরদেহ লুকিয়ে দাফন করে বলেও জানান তিনি।
সংশ্লিস্ট চাঁপাইনবাবগঞ্জ ব্যাটালিয়ন (৫৩ বিজিবি) অধিনায়ক লে.কর্নেল কাজী মুস্তাফিজুর রহমান বলেন, রহিমের নিখোঁজ সংবাদ পাওয়া গেছে। তবে পরিবারের কোন অভিযোগ পাওয়া যায় নি। সোমবার দুপুরে সীমান্তের ৫ কিলোমিটার বাংলাদেশের ভেতরে ফতেপুর বিওপি এলাকায় পদ্মার চরে একটি মরদেহ পাবার খবর পেয়ে খোঁজ নেয়া হচ্ছে। রহিমের বিষয়টি সীমান্ত সংশ্লিষ্ট কিনা তা  নিশ্চিত হতে হবে। রহিম মারা গেছে কিনা এবং কিভাবে মারা গেল তা নিশ্চিত হতে হবে। এরপর যদি সংশ্লিস্টতা পাওয়া যায় তবে অবশ্যই  বিএসএফর সাথে কথা বলা হবে। বাংলাদেশ সীমান্তের ওপারে ৭১’বিএসএফ এর নিমতিতা ক্যাম্প দায়িত্বরত  বলেও জানান অধিনায়ক।