মো শা হে দ চৌ ধু রী

  • মুখোশের আড়ালে দানবতন্ত্র
  • ২০২৬-০২-১৬ ১১:২০:৩৯
image

সে মানুষ ছিল না
সে ছিল ব্যাংকের ভল্টে জন্ম নেওয়া এক কীট,
ডলারের লোভে যার মনুষ্যত্ব লুপ্ত হয়েছে
আর বিবেক হয়েছে অদৃশ্য।

তার নুখে ছিল আততায়ীর ক্রুর হাসি
ছিল ক্যামেরার ফ্ল্যাশ,
ছিল ক্ষমতাসীনদের সঙ্গে ঘৃণ্য নীরব চুক্তি।

-- একটা দ্বীপ ছিল
কিন্তু সেখানে সমুদ্রের নীল ছিল না, 
ছিল থমকে দাঁড়ানো রক্তিম আকাশের বীভৎস ছায়া
আর চার দেওয়ালের মধ্যে ছিল শিশুদের আর্তনাদ।

সে শিশুদের স্বপ্ন টেবিলের ওপর রেখে
টাকার ওজনে মেপেছে।
আইনের চোখ বেঁধে দিয়েছে কালো কাপড় 
ন্যায়ের মুখে পরিয়ে দিয়েছে সোনার মুখোশ।

শেষপর্যন্ত তার মৃত্যু হলো
কিন্তু সেটা শাস্তি ছিল না, ছিল পালিয়ে যাওয়া।
একটা দানবের জন্য সবচেয়ে সহজ পলায়ন।

তার লাশ নামানো হলো
কিন্তু অপরাধ নামানো হলো না।
নামগুলো রয়ে গেল তালাবদ্ধ ড্রয়ারে,
আর বিচার আটকে রইলো ক্ষমতার সিঁড়ির মাঝখানে।

আমি শুধু তাকে ঘৃণা করি না
আমি ঘৃণা করি সেই ব্যবস্থাকে যার ভেতর সে নিরাপদ ছিল।
এই ঘৃণা ব্যক্তিগত নয়, এ ঘৃণা একটি অবস্থান।
এ ঘৃণা রইলো সব নিপীড়িতের পক্ষে,
সব নীরব রাতের বিরুদ্ধে।

দানব মরেছে কিন্তু দানবতন্ত্র বেঁচে আছে
যতদিন টাকা অসহায় মানুষকে কিনে নেবে
ততদিন এই কবিতা থাকবে একটি খোলা অভিযোগপত্র হয়ে।