ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচন ঘিরে মাঠে সেনাবাহিনী, টানা সাতদিন কঠোর নিরাপত্তা বলয়

  • সকালের আলো প্রতিবেদক
  • ২০২৬-০২-০৮ ১৫:১৪:৩৯
image

আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটকে সামনে রেখে আজ রোববার থেকে সেনাবাহিনীসহ সব আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী আনুষ্ঠানিকভাবে মাঠে নামছে। ভোটের আগে চারদিন, ভোটের দিন এবং ভোটের পর দুইদিন মিলিয়ে মোট সাতদিন-আগামী ১৪ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত তারা দায়িত্ব পালন করবে।
নির্বাচন কমিশনার আব্দুর রহমানেল মাছউদ বাসসকে জানান, সেনাবাহিনী আগেই মাঠে থাকলেও আজ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে মোতায়েন কার্যক্রম শুরু হলো। তিনি বলেন, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি বর্তমানে স্বাভাবিক রয়েছে এবং নির্বাচন আয়োজনের পরিবেশ সম্পূর্ণ অনুকূল।
নির্বাচনের প্রস্তুতি প্রসঙ্গে তিনি জানান, সার্বিক প্রস্তুতি ইতোমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে। ব্যালট বাক্স জেলা পর্যায়ে পাঠানো হচ্ছে এবং রিটার্নিং কর্মকর্তারা তা গ্রহণ করছেন। নির্বাচন সংশ্লিষ্ট সবাই এখন শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতিতে ব্যস্ত সময় পার করছেন।
এ বিষয়ে ইসি সচিবালয়ের সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ বলেন, ৮ থেকে ১৪ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত আইনশৃঙ্খলা বাহিনী মাঠে থাকবে। এর মধ্যে সেনাবাহিনী সাতদিন এবং আনসার বাহিনী আটদিন দায়িত্ব পালন করবে। পুলিশ ও সেনাবাহিনী ইতোমধ্যে মাঠপর্যায়ে সক্রিয় রয়েছে।
তিনি আরও জানান, মোবাইল কোর্ট পরিচালনার জন্য ১ হাজার ৫০ জন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট এই সময়জুড়ে দায়িত্বে থাকবেন। পাশাপাশি জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট এবং ইলেক্টোরাল এনকোয়ারি অ্যান্ড এডজুডিকেশন কমিটিও মাঠে কাজ করছে। নির্বাচনে অংশগ্রহণকারী রাজনৈতিক দলগুলোর প্রচার-প্রচারণা ভোটের ৪৮ ঘণ্টা আগে, অর্থাৎ ১০ ফেব্রুয়ারি সকাল সাড়ে ৭টায় বন্ধ হবে।
এর আগে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী জানিয়েছিলেন, এবারের নির্বাচনে রেকর্ড সংখ্যক প্রায় ৯ লাখ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য দায়িত্ব পালন করবেন। প্রতিটি ভোটকেন্দ্রে কমপক্ষে পাঁচজন অস্ত্রধারী সদস্য মোতায়েন থাকবে, যার মধ্যে দুইজন পুলিশ ও তিনজন আনসার সদস্য। গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রগুলোতে এই সংখ্যা আরও বাড়ানো হবে।
এছাড়া প্রতিটি কেন্দ্রে অস্ত্রবিহীন ১০ জন আনসার সদস্য থাকবে, যাদের মধ্যে নারী সদস্যও অন্তর্ভুক্ত থাকবেন। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পাশাপাশি বিএনসিসি, গার্লস গাইড ও স্কাউট সদস্যরাও নির্বাচনী কাজে সহযোগিতা করবেন।
স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা আশা প্রকাশ করে বলেন, এবারের জাতীয় নির্বাচন হবে বাংলাদেশের ইতিহাসে সবচেয়ে অবাধ, স্বচ্ছ, নিরপেক্ষ ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচন—যা একটি রোল মডেল হিসেবে বিবেচিত হবে।

কী-ওয়ার্ডস:জাতীয় সংসদ নির্বাচন,আইনশৃঙ্খলা বাহিনী,ভোট নিরাপত্তা