আরব সাগরে মোতায়েন থাকা একটি মার্কিন বিমানবাহী রণতরীর দিকে এগিয়ে আসা ইরানি ড্রোন গুলি করে ভূপাতিত করেছে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী। মঙ্গলবারের এই ঘটনায় মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে, যার প্রভাব ইরান-যুক্তরাষ্ট্রের পারমাণবিক আলোচনা পরিকল্পনার ওপরও পড়তে পারে বলে মনে করছে ওয়াশিংটন।
হোয়াইট হাউস জানিয়েছে, ঘটনার পরও কূটনৈতিক যোগাযোগ পুরোপুরি বন্ধ হয়নি। মুখপাত্র ক্যারোলিন লিভিট বলেন, মার্কিন দূত স্টিভ উইটকফ চলতি সপ্তাহের শেষ দিকে ইরানিদের সঙ্গে আলোচনায় বসবেন বলে এখনও আশা করা হচ্ছে। তবে সাম্প্রতিক সামরিক সংঘাত আলোচনার পরিবেশকে জটিল করে তুলেছে।
মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ডের এক বিবৃতিতে বলা হয়, বিমানবাহী রণতরী ইউএসএস আব্রাহাম লিংকনের নিরাপত্তার স্বার্থে একটি এফ-৩৫সি যুদ্ধবিমান থেকে ইরানি ড্রোনটিকে ভূপাতিত করা হয়। সামরিক ভাষ্যে এটিকে আত্মরক্ষামূলক পদক্ষেপ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
একই দিনে হরমুজ প্রণালীতে মার্কিন পতাকাবাহী একটি ট্যাঙ্কার আটকানোর চেষ্টার ঘটনাও ঘটে। বিশ্লেষকদের মতে, এ দুটি ঘটনা ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে সাম্প্রতিক সময়ে দ্বিতীয় বড় সরাসরি সংঘাতের ইঙ্গিত দিচ্ছে।
ওয়াশিংটন ও তেহরান পারমাণবিক ইস্যুতে আলোচনায় বসতে নীতিগতভাবে সম্মত হলেও পারস্পরিক অবিশ্বাস এখনো প্রকট। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প একাধিকবার ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক পদক্ষেপের হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। জবাবে ইরানও সতর্ক করে জানিয়েছে, হামলা হলে তারা মার্কিন জাহাজ ও ঘাঁটিকে লক্ষ্যবস্তু বানাবে।
ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান বলেছেন, হুমকিমুক্ত পরিবেশ না থাকলে কোনো আলোচনাই ফলপ্রসূ হবে না। এ অবস্থায় শুক্রবার নির্ধারিত বৈঠক আদৌ অনুষ্ঠিত হবে কি না, তা নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, সামরিক উত্তেজনা অব্যাহত থাকলে কূটনৈতিক উদ্যোগ আরও কঠিন হয়ে উঠবে এবং পারমাণবিক আলোচনার ভবিষ্যৎ ঝুলে যেতে পারে।
কী-ওয়ার্ডস:ইরান যুক্তরাষ্ট্র উত্তেজনা,আরব সাগর ড্রোন ঘটনা,পারমাণবিক আলোচনা