নির্বাচনের সন্ধিক্ষণে মানবাধিকার প্রশ্ন: ড. ইউনূসকে অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের খোলা চিঠি

  • সকালের আলো প্রতিবেদক
  • ২০২৬-০১-২৯ ১২:২৯:২৬
image

আসন্ন জাতীয় নির্বাচন সামনে রেখে মানবাধিকার সুরক্ষা, আইনের শাসন ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়ে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের কাছে খোলা চিঠি দিয়েছেন আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংগঠন অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের মহাসচিব অ্যাগনেস ক্যালামার্ড।
বুধবার (২৯ জানুয়ারি) অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত এই খোলা চিঠিটি লেখা হয় গত সোমবার (২৬ জানুয়ারি)। এতে বলা হয়, অন্তর্বর্তী সরকারের তত্ত্বাবধানে ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিতব্য জাতীয় নির্বাচন বাংলাদেশের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ সময়, যা একদিকে বড় দায়িত্বের, অন্যদিকে জনগণের আস্থা পুনর্গঠন ও মানবাধিকার সংস্কারের একটি গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ।
চিঠিতে অ্যাগনেস ক্যালামার্ড উল্লেখ করেন, অতীতে ধারাবাহিক বিভিন্ন সরকারের আমলে বাংলাদেশে গুম, বিচারবহির্ভূত হত্যা, নির্বিচার আটক, নির্যাতন, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ও শান্তিপূর্ণ সমাবেশের অধিকারে গুরুতর ও স্থায়ী লঙ্ঘন ঘটেছে। এসব ঘটেছে এমন এক প্রেক্ষাপটে, যেখানে নাগরিক পরিসর সংকুচিত হয়েছে, প্রাতিষ্ঠানিক সুরক্ষা দুর্বল ছিল এবং দায়মুক্তির সংস্কৃতি গভীরভাবে প্রোথিত ছিল।
তিনি স্বীকার করেন, অন্তর্বর্তী সরকার ‘গুম থেকে সকল ব্যক্তিকে সুরক্ষার আন্তর্জাতিক কনভেনশন’ এবং ‘নির্যাতনবিরোধী কনভেনশনের ঐচ্ছিক প্রটোকল (ওপিসিএটি)’ অনুসমর্থনের মতো কিছু ইতিবাচক পদক্ষেপ নিয়েছে। তবে একই সঙ্গে তিনি বলেন, কাঠামোগত সংস্কার ও বাস্তব প্রয়োগের ক্ষেত্রে এখনো বড় চ্যালেঞ্জ রয়ে গেছে।
নির্বাচন-পূর্ব সময়ে মতপ্রকাশের স্বাধীনতা, শান্তিপূর্ণ সমাবেশ এবং সংগঠনের স্বাধীনতার গুরুত্ব তুলে ধরে চিঠিতে বলা হয়, এসব অধিকার ক্ষুণ্ন হলে নির্বাচনী পরিবেশ বিকৃত হয় এবং রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানের প্রতি জনগণের আস্থা দুর্বল হয়ে পড়ে। অনলাইন ও অফলাইন-উভয় ক্ষেত্রেই এসব মৌলিক অধিকার পূর্ণ সুরক্ষার দায়িত্ব সরকারের ওপর বর্তায়।
চিঠিতে সন্ত্রাসবিরোধী আইনের অপব্যবহার নিয়েও গভীর উদ্বেগ জানানো হয়। বিশেষ করে সাংবাদিকদের কথিত রাজনৈতিক মতাদর্শ বা সম্পৃক্ততার অভিযোগে গ্রেপ্তারের ঘটনাগুলোকে মতপ্রকাশের স্বাধীনতার জন্য হুমকি হিসেবে উল্লেখ করা হয়। পাশাপাশি সাম্প্রতিক সময়ে সাংবাদিক, গণমাধ্যম প্রতিষ্ঠান, শিল্পী ও সংখ্যালঘুদের ওপর হামলার ঘটনাগুলোকে মানবাধিকার রক্ষায় গুরুতর ব্যর্থতার উদাহরণ হিসেবে তুলে ধরা হয়।
এই প্রেক্ষাপটে অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল অন্তর্বর্তী সরকারকে আহ্বান জানিয়েছে—নির্বাচনের কেন্দ্রে মানবাধিকার সুরক্ষাকে অগ্রাধিকার দিতে, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর দ্রুত ও জবাবদিহিমূলক ভূমিকা নিশ্চিত করতে এবং সব ধরনের সহিংসতা ও অধিকার লঙ্ঘনের ঘটনায় দায়ীদের বিচারের আওতায় আনতে। সংস্থাটির মতে, নির্বাচন-পূর্ব এই সময়কাল আন্তর্জাতিক মানবাধিকার বাধ্যবাধকতা ও আইনের শাসনের প্রতি সরকারের অঙ্গীকারের একটি কঠিন পরীক্ষা।

কী-ওয়ার্ডঃড. মুহাম্মদ ইউনূস,অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল,মানবাধিকার ও নির্বাচন,খোলা চিঠি বাংলাদেশ