বাংলাদেশের জাতীয় নির্বাচনী ইতিহাসে নতুন অধ্যায় যুক্ত হয়েছে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মাধ্যমে। এই নির্বাচনে প্রথমবারের মতো কুয়েত প্রবাসী বাংলাদেশিরা পোস্টাল ব্যালটের মাধ্যমে স্বতঃস্ফূর্তভাবে তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করছেন, যা প্রবাসী ভোট ব্যবস্থায় এক যুগান্তকারী অগ্রগতি হিসেবে দেখা হচ্ছে।
রোববার (২৫ জানুয়ারি) থেকে কুয়েতের সালমিয়া, হাওয়াল্লি ও কাইফানসহ বিভিন্ন পোস্ট অফিসে প্রবাসীদের ব্যালট জমা দেওয়ার দৃশ্য চোখে পড়ছে। অনেক স্থানে প্রবাসীদের উপস্থিতিতে এক ধরনের উৎসবমুখর পরিবেশ তৈরি হয়েছে।
কুয়েতস্থ বাংলাদেশ দূতাবাস মঙ্গলবার (২৭ জানুয়ারি) এক বিজ্ঞপ্তিতে জানায়, নিবন্ধিত ভোটাররা আল মিসাইল পোস্ট অফিসে কোনো ধরনের ফি ছাড়াই তাদের হলুদ খামের ব্যালট জমা দিতে পারবেন। যারা নিবন্ধন সম্পন্ন করেও এখনো ব্যালট পাননি, তাদের দ্রুত ব্যালট সংগ্রহ করে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে জমা দেওয়ার অনুরোধ জানানো হয়েছে।
দূতাবাস সূত্রে জানা গেছে, এবার কুয়েতে মোট ৩৫ হাজার ৩৮৬ জন প্রবাসী পোস্টাল ব্যালটের জন্য নিবন্ধন করেছেন। এর মধ্যে নারী ভোটারের সংখ্যা ৫২৪ জন। নির্বাচন কমিশনের কর্মকর্তারা বলছেন, এই অংশগ্রহণ ভবিষ্যতে প্রবাসী ভোট ব্যবস্থার সম্প্রসারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
এই নির্বাচনে প্রযুক্তির ব্যবহারও উল্লেখযোগ্য। ভোটারদের নির্দিষ্ট অ্যাপের মাধ্যমে কিউআর কোড স্ক্যান, ফেস ভেরিফিকেশন এবং ব্যক্তিগত পিন ব্যবহার করে ভোট দিতে হচ্ছে। দীর্ঘদিন বিদেশে বসবাসকারী অনেক প্রবাসী জীবনে প্রথমবার ভোট দেওয়ার সুযোগ পেয়ে আবেগ প্রকাশ করেছেন।
প্রযুক্তিগত অভিজ্ঞতা কম থাকলেও প্রবাসীরা একে অপরকে সহায়তা করছেন। তবে নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, ভোটের গোপনীয়তা নিশ্চিত করতে একজন ভোটার অন্যজনের হয়ে ভোট দেওয়ার কোনো সুযোগ নেই।
নির্বাচন কমিশনের নির্দেশনা অনুযায়ী, প্রবাসীদের পাঠানো ব্যালট আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি বিকেল সাড়ে ৪টার মধ্যে নির্ধারিত গন্তব্যে পৌঁছাতে হবে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে পৌঁছানো ব্যালটগুলোই গণনার আওতায় আসবে।
কী-ওয়ার্ডস:পোস্টাল ভোট,কুয়েত প্রবাসী,জাতীয় নির্বাচন