ভোটের হাওয়া ও ভোটারের নীরব হিসাব

  • মোহাম্মদ ইমন মিজি
  • ২০২৬-০১-২৪ ১০:৪৩:৫৫
image

​নির্বাচনটা এখন অনেকটা পেরেকের খোঁচা খাওয়ার মতো-অস্বস্তি আছে, কিন্তু এড়িয়ে যাওয়ার উপায় নেই। পিঁপড়ের মতো ঘরের দরজার সামনে এসে গুড়গুড় করছে ১২ই ফেব্রুয়ারির নির্বাচন। ভোটের সমীকরণ বড় বিচিত্র! সমাজের একটি সাধারণ বিয়ের অনুষ্ঠান কিংবা শিশুর খতনাতে দাওয়াত দিলে লোকজন আসবে কি না-তা নিয়ে সংশয় থাকে। অথচ কোনো মৃত ব্যক্তির বাড়িতে 'খানা' বা ভোজ হলে সেখানে ঠিকই হামাগুড়ি দিয়ে বসে পড়ে লোকজন। বিনয় আর কৃত্রিম অনুভূতি নিয়ে সেখানেই চলে ভোট চাওয়া। আমাদের জাতি সহজ-সরল; সবাই চায় দিনশেষে সহি-সালামতে ভোটটা দিয়ে আসতে।
​দীর্ঘদিন দেখা নেই, অথচ নির্বাচনের হাওয়া বইতেই হঠাৎ সালাম বিনিময় আর দোয়া নেওয়ার হিড়িক পড়ে গেছে। মুখে সরাসরি ভোটের কথা না বললেও আকার-ইঙ্গিতে ঠিকই বুঝিয়ে দেওয়া হচ্ছে। তবে চতুর প্রার্থীদের জন্য এবার বড় বিপদ-ভোটাররা যদি একবার তাদের চালাকি বুঝে ফেলে, তবে তারা প্রার্থীকে কৌশলে এড়িয়ে চলে। শেষ পর্যন্ত ব্যালট হাতে নিয়ে ভোটার তার বিবেক অনুযায়ী উপযুক্ত প্রার্থীকেই বেছে নেবে-এমনটাই প্রত্যাশা।
​বর্তমানে গ্রামাঞ্চলে তরুণ থেকে বৃদ্ধ-সবাই এখন নির্বাচনী আলোচনায় মত্ত। কুয়াশাভেজা শীতে গ্রামে ভোটের তাপ থাকলেও শহরের যান্ত্রিকতায় সেই চিরচেনা ভাবটা যেন কিছুটা ফিকে। তবে সব ছাপিয়ে মানুষের মনে এখন বড় প্রশ্ন-ভোটকেন্দ্রে গিয়ে আদেও লাভ হবে কি না? আওয়ামী লীগের বর্তমান অচলবস্থা আর জাতীয় পার্টির দৃশ্যমান অনুপস্থিতিতে নির্বাচন এখন অনেকের কাছেই হাসি-তামাশার খোরাক হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিএনপি ও জামায়াতের এই নির্বাচনি আবহে এনসিপি বা অন্যান্য নতুন দল থাকলেও সাধারণ মানুষের মধ্যে সেই কাঙ্ক্ষিত উদ্দীপনার চেয়ে শঙ্কা ও নীরব পর্যবেক্ষণের পাল্লাই বেশি ভারী।
তবে সবকিছুর ঊর্ধ্বে সাধারণ মানুষের একটাই চাওয়া-বিবেক অনুযায়ী ভোট দেওয়া এবং একটি সুষ্ঠু নির্বাচনের প্রত্যাশা।