হারারেতে চলমান অনূর্ধ্ব-১৯ পুরুষ ক্রিকেট বিশ্বকাপে পাকিস্তান দলের একটি ম্যাচকে কেন্দ্র করে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে রান তাড়ার সময় ইচ্ছাকৃতভাবে ব্যাটিংয়ের গতি কমিয়েছে-এমন অভিযোগ উঠেছে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে। এই কৌশলের ফলেই স্কটল্যান্ড গ্রুপ পর্ব থেকেই বিশ্বকাপ থেকে ছিটকে পড়ে।
গ্রুপ সি-এর শেষ ম্যাচে আগে ব্যাট করে জিম্বাবুয়ে ১২৮ রানে গুটিয়ে যায়। লক্ষ্য তাড়ায় পাকিস্তান শুরু থেকেই নিয়ন্ত্রিত ব্যাটিং করে। ওপেনার সামির মিনহাস ও আহমেদ হুসেইন ঝুঁকি না নিয়ে ধীরে রান তুলতে থাকেন। ১২ ওভারের মধ্যেই দলের সংগ্রহ দাঁড়ায় ৭৪ রান, তখন উইকেট হারায় মাত্র দুটি। প্রয়োজনীয় রানরেট তখন পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে ছিল।
২৬ ওভার শেষে পাকিস্তানের রান পৌঁছে যায় ১২০-এ, হাতে ছিল পর্যাপ্ত উইকেট। এই অবস্থাতেই নিশ্চিত হয়ে যায়, গ্রুপে জিম্বাবুয়ে স্কটল্যান্ডের ওপরে থেকে সুপার সিক্সে জায়গা করে নিচ্ছে। পরের ওভারের শুরুতেই মিনহাস টানা দুই বলে দুটি ছক্কা হাঁকিয়ে ম্যাচ শেষ করেন। পাকিস্তান ২৬.২ ওভারে ১৩২ রান তুলে আট উইকেটে জয় পায়।
ম্যাচ শেষে মূল প্রশ্ন ওঠে-কেন সহজ লক্ষ্য থাকা সত্ত্বেও পাকিস্তান শুরুতে ব্যাটিংয়ের গতি বাড়ায়নি। বিশ্লেষকদের মতে, এটি ছিল আবহাওয়া বা পিচের কারণে নয়, বরং সুপার সিক্স পর্বে সুবিধা নেওয়ার কৌশল। টুর্নামেন্টের নিয়ম অনুযায়ী, সুপার সিক্সে সব গ্রুপ ম্যাচের ফল বহাল থাকে না; কেবল কোয়ালিফাই করা দলের বিপক্ষে পাওয়া পয়েন্ট ও নেট রানরেট গণনায় আসে।
জিম্বাবুয়ে স্কটল্যান্ডের ওপরে থাকায় পাকিস্তানের জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে ফল সুপার সিক্সে কার্যকর হবে। স্কটল্যান্ড কোয়ালিফাই করলে সেই ফল পাকিস্তানের জন্য অকার্যকর হতো। নেট রানরেটে এগিয়ে থাকার লক্ষ্যেই পাকিস্তান এই ধীরগতির কৌশল নিয়েছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
এই সিদ্ধান্তের পক্ষে মত দিয়েছেন সাবেক জিম্বাবুয়ে অধিনায়ক অ্যান্ডি ফ্লাওয়ার। ইএসপিএনক্রিকইনফোকে তিনি বলেন, এটি চতুর কিন্তু যুক্তিসংগত কৌশল। তার মতে, আগে ম্যাচ জয়ের নিশ্চয়তা নিশ্চিত করা হয়েছে, এরপর পরিস্থিতি অনুযায়ী খেলা নিয়ন্ত্রণ করা হয়েছে। নৈতিকতার প্রশ্ন উঠলেও ব্যক্তিগতভাবে তিনি এতে আপত্তি দেখেন না।
কীওয়ার্ডসঃঅনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপ,পাকিস্তান ক্রিকেট,নেট রানরেট বিতর্ক