গ্রিনল্যান্ড নিয়ে নিরপেক্ষ মস্কো: যুক্তরাষ্ট্র-ডেনমার্কের বিষয়,রাশিয়ার মাথাব্যথা নেই-পুতিন

  • আন্তর্জাতিক ডেস্ক
  • ২০২৬-০১-২২ ২১:২০:৫১
image

গ্রিনল্যান্ডের মালিকানা বা নিয়ন্ত্রণ কার হাতে থাকবে-এটি রাশিয়ার জন্য কোনো চিন্তার বিষয় নয় বলে মন্তব্য করেছেন রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। তাঁর মতে, বিষয়টি যুক্তরাষ্ট্র ও ডেনমার্কের নিজেদের মধ্যেই মিটিয়ে নেওয়া উচিত। বুধবার (২১ জানুয়ারি) রাশিয়ার নিরাপত্তা পরিষদের এক বৈঠকে প্রথমবারের মতো প্রকাশ্যে গ্রিনল্যান্ড ইস্যুতে নিজের অবস্থান জানান তিনি।
পুতিন বলেন, ‘গ্রিনল্যান্ডে কী হচ্ছে বা না হচ্ছে, তা নিয়ে আমাদের বিন্দুমাত্র মাথাব্যথা নেই।’ তবে একই সঙ্গে তিনি দ্বীপটির প্রতি ডেনমার্কের ঐতিহাসিক আচরণের কড়া সমালোচনা করেন। তাঁর দাবি, ডেনমার্ক দীর্ঘদিন গ্রিনল্যান্ডকে উপনিবেশের মতো ব্যবহার করেছে এবং সেখানে কঠোর ও নিষ্ঠুর নীতি প্রয়োগ করেছে।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের গ্রিনল্যান্ড দখলের উদ্যোগকে কেন্দ্র করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপের মধ্যে যে দূরত্ব তৈরি হয়েছে, তা মস্কো পর্যবেক্ষণ করছে। যদিও আর্কটিক অঞ্চলে রাশিয়ার শক্তিশালী সামরিক ও কৌশলগত উপস্থিতি থাকায় এই ইস্যুর প্রভাব রাশিয়ার ওপর পড়তে পারে বলেও বিশ্লেষকদের ধারণা।
সম্প্রতি সুইজারল্যান্ডের দাভোসে বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরামে দেওয়া বক্তব্যে ট্রাম্প গ্রিনল্যান্ড দখলে সামরিক শক্তি ব্যবহারের সম্ভাবনা নাকচ করেছেন এবং ইউরোপের ওপর শুল্ক আরোপের হুমকি থেকেও সরে আসেন। একই সঙ্গে তিনি ইঙ্গিত দেন, ডেনমার্কের সঙ্গে এই আধা স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চল নিয়ে একটি কাঠামোগত চুক্তির পথ তৈরি হচ্ছে।
গ্রিনল্যান্ড ঘিরে যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপের মধ্যে সাম্প্রতিক উত্তেজনাকে আটলান্টিকের দুই তীরের দেশগুলোর সম্পর্কে গত কয়েক দশকের সবচেয়ে বড় ফাটল হিসেবে দেখা হচ্ছে। এ প্রেক্ষাপটে পুতিনের মন্তব্যকে ট্রাম্পের অবস্থানের প্রতি এক ধরনের নীরব সমর্থন হিসেবেও ব্যাখ্যা করা হচ্ছে।
পুতিন আরও বলেন, ইতিহাসে ভূখণ্ড কেনাবেচার নজির রয়েছে। তিনি স্মরণ করিয়ে দেন, ১৮৬৭ সালে রাশিয়া আলাস্কা যুক্তরাষ্ট্রের কাছে বিক্রি করেছিল এবং ১৯১৭ সালে ডেনমার্ক ভার্জিন আইল্যান্ডস বিক্রি করেছিল ওয়াশিংটনের কাছে। এসব উদাহরণ টেনে তিনি দাবি করেন, বর্তমান মূল্যস্ফীতি, গ্রিনল্যান্ডের আয়তন ও সোনার দামের হিসাব ধরলে দ্বীপটির দাম প্রায় ১০০ কোটি মার্কিন ডলার হতে পারে-যা যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষে পরিশোধ করা সম্ভব।
রাশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই লাভরভও সম্প্রতি মন্তব্য করেছেন, সম্পদে ভরপুর গ্রিনল্যান্ড ডেনমার্কের কোনো ‘স্বাভাবিক অংশ’ নয়। তবে ইউক্রেন যুদ্ধ বন্ধে সম্ভাব্য সমঝোতার প্রচেষ্টার কারণে ট্রাম্পের বিরুদ্ধে প্রকাশ্য সমালোচনা এড়িয়ে চলছে মস্কো।
সবশেষে পুতিন বলেন, তাঁর বিশ্বাস যুক্তরাষ্ট্র ও ডেনমার্ক শেষ পর্যন্ত নিজেদের মধ্যেই গ্রিনল্যান্ড ইস্যুর সমাধান করে ফেলবে।

কীওয়ার্ডস:গ্রিনল্যান্ড ইস্যু,পুতিন মন্তব্য,যুক্তরাষ্ট্র ডেনমার্ক