ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে হলফনামা বিশ্লেষণ: মামলা,কোটিপতি ও নারী প্রার্থীর ঘাটতি প্রকাশ

  • সকালের আলো প্রতিবেদক
  • ২০২৬-০১-২২ ১৩:৫৪:২৬
image

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নেওয়া প্রার্থীদের মধ্যে মামলা, সম্পদ ও পেশাগত কাঠামো নিয়ে চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ করেছে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)। সংস্থাটির বিশ্লেষণ অনুযায়ী, এবারের নির্বাচনে অংশগ্রহণকারী প্রার্থীদের মধ্যে মামলা রয়েছে অন্তত ৫৩০ জনের বিরুদ্ধে। একই সঙ্গে কোটিপতি প্রার্থীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৮৯১ জনে, যার মধ্যে ১০০ কোটি টাকার বেশি স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদের মালিক ২৭ জন।
বৃহস্পতিবার (২২ জানুয়ারি) রাজধানীর ধানমন্ডির মাইডাস সেন্টারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে ‘হলফনামায় প্রার্থী পরিচিতি ২০২৬’ শীর্ষক প্রতিবেদন প্রকাশ করে টিআইবি। একই অনুষ্ঠানে উন্মোচন করা হয় কেওয়াইসি (Know Your Candidate) ড্যাশবোর্ড। এতে উপস্থিত ছিলেন টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ইফতেখারুজ্জামান, আউটরিচ অ্যান্ড কমিউনিকেশন ডেপুটি কো-অর্ডিনেটর জাফর সাদিক এবং উপদেষ্টা ও নির্বাহী ব্যবস্থাপনা অধ্যাপক সুমাইয়া খায়ের।
প্রতিবেদনের মূল প্রবন্ধে টিআইবির আউটরিচ অ্যান্ড কমিউনিকেশন বিভাগের পরিচালক মোহাম্মদ তৌহিদুল ইসলাম জানান, এবারের নির্বাচনে ৫১টি রাজনৈতিক দলের মোট ১ হাজার ৯৮১ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। এর মধ্যে ৪৮ শতাংশের বেশি প্রার্থীর মূল পেশা ব্যবসা। রাজনীতিকে পেশা হিসেবে উল্লেখ করেছেন মাত্র ১ দশমিক ৫৬ শতাংশ প্রার্থী। আইন পেশায় নিয়োজিত ১২ দশমিক ৬১ শতাংশ এবং শিক্ষকতায় রয়েছেন ১১ দশমিক ৫৬ শতাংশ প্রার্থী।
তিনি জানান, মোট প্রার্থীর মধ্যে ১ হাজার ৬৯৬ জন প্রথমবারের মতো সংসদ নির্বাচনে অংশ নিচ্ছেন। শিক্ষাগত যোগ্যতার দিক থেকেও এবারের নির্বাচনে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর ডিগ্রিধারী প্রার্থীর হার আগের পাঁচটি নির্বাচনের তুলনায় সর্বোচ্চ। তবে প্রার্থীদের মধ্যে ৫৫০ জনের বিরুদ্ধে বিভিন্ন ধরনের মামলা থাকার তথ্য উঠে এসেছে।
নারী প্রতিনিধিত্বের ক্ষেত্রেও হতাশাজনক চিত্র তুলে ধরেছে টিআইবি। সংস্থাটির মতে, প্রতিবারের মতো এবারও নারী প্রার্থীর অংশগ্রহণ ৫ শতাংশের লক্ষ্যমাত্রা পূরণ করতে পারেনি। এমনকি কয়েকটি রাজনৈতিক দল কোনো নারী প্রার্থীই দিতে পারেনি।
সম্পদ বিশ্লেষণে দেখা গেছে, ২৫৯ প্রার্থীর তুলনায় তাঁদের স্ত্রী বা নির্ভরশীলদের অস্থাবর সম্পদের পরিমাণ বেশি। একইভাবে ১১৮ প্রার্থীর ক্ষেত্রে দালান বা ফ্ল্যাট এবং ১৬৪ প্রার্থীর ক্ষেত্রে জমির পরিমাণ প্রার্থীর নিজের চেয়ে স্ত্রী বা নির্ভরশীলদের নামে বেশি দেখানো হয়েছে। তবে টিআইএন (কর শনাক্তকরণ নম্বর) দিয়েছেন ৯৭ দশমিক ২৫ শতাংশ প্রার্থী।
সংবাদ সম্মেলনে টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ইফতেখারুজ্জামান বলেন, এবারের নির্বাচনে ইসলামপন্থি দলগুলোর প্রার্থীর সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। মোট প্রার্থীর ৩৬ শতাংশের বেশি ইসলামপন্থি দলগুলোর, যা বিগত পাঁচটি নির্বাচনের মধ্যে সর্বোচ্চ।

কীওয়ার্ডস:সংসদ নির্বাচন,প্রার্থীর হলফনামা,টিআইবি প্রতিবেদন