গ্রিনল্যান্ড ইস্যু ঘিরে যুক্তরাষ্ট্র ও ফ্রান্সের কূটনৈতিক সম্পর্ক ক্রমেই উত্তপ্ত হয়ে উঠছে। এই উত্তেজনার মাঝেই ফরাসি প্রেসিডেন্ট এমানুয়েল ম্যাক্রোঁর পাঠানো একটি ব্যক্তিগত বার্তার স্ক্রিনশট প্রকাশ করে নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।
নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ শেয়ার করা ওই বার্তায় দেখা যায়, ম্যাক্রোঁ ট্রাম্পকে ‘বন্ধু’ সম্বোধন করে সিরিয়া ও ইরান ইস্যুতে যৌথ উদ্যোগের কথা বলেছেন। তবে গ্রিনল্যান্ড বিষয়ে ট্রাম্পের অবস্থান নিয়ে বিস্ময় প্রকাশ করে তিনি লিখেছেন, যুক্তরাষ্ট্র সেখানে ঠিক কী করতে চাইছে—তা তার বোধগম্য নয়। একই সঙ্গে ইউক্রেন, ডেনমার্ক ও রাশিয়ার প্রতিনিধিদের নিয়ে প্যারিসে একটি বিশেষ বৈঠকের প্রস্তাবও দেন ম্যাক্রোঁ।
গ্রিনল্যান্ড দখল বা নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার হুমকির বিরুদ্ধে ইউরোপীয় নেতাদের মধ্যে সবচেয়ে কঠোর অবস্থানে রয়েছেন ফরাসি প্রেসিডেন্ট। ডেনমার্কের প্রতি সমর্থন জানিয়ে তিনি গ্রিনল্যান্ডে ফরাসি সেনা পাঠানোর ঘোষণা দেন এবং প্রয়োজনে যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে ইউরোপীয় ইউনিয়নের বাণিজ্যিক ব্যবস্থা ব্যবহারের আহ্বান জানান।
এদিকে গাজা পুনর্গঠনে যুক্তরাষ্ট্রের প্রস্তাবিত ‘বোর্ড অব পিস’ পরিকল্পনার বিরোধিতা করায় ম্যাক্রোঁর প্রতি ক্ষোভ প্রকাশ করেন ট্রাম্প। সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি দাবি করেন, ম্যাক্রোঁ শিগগিরই ক্ষমতা হারাতে যাচ্ছেন। এর প্রতিক্রিয়ায় ফরাসি ওয়াইন ও শ্যাম্পেনের ওপর ২০০ শতাংশ শুল্ক আরোপের ঘোষণাও দেন তিনি।
মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএন নিশ্চিত করেছে, প্রকাশিত স্ক্রিনশটটি ম্যাক্রোঁর পাঠানো প্রকৃত বার্তা। বিশ্লেষকদের মতে, দুই দেশের শীর্ষ নেতাদের এই প্রকাশ্য বিরোধ বৈশ্বিক রাজনীতি ও আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে নতুন অস্থিরতার ইঙ্গিত দিচ্ছে।
কীওয়ার্ডসঃগ্রিনল্যান্ড ইস্যু,ট্রাম্প ম্যাক্রোঁ দ্বন্দ্ব,যুক্তরাষ্ট্র ফ্রান্স সম্পর্ক,বৈশ্বিক কূটনীতি