ভোট ও জনগণের প্রত্যাশা

  • এস এম আজাদ হোসেন
  • ২০২৬-০১-২০ ২১:৫৭:০৬
image

ভোট শুধু একটি ব্যালট বাক্সে কাগজ ফেলার নাম নয়-ভোট মানে আশা, ক্ষোভ, স্বপ্ন আর ভবিষ্যতের সঙ্গে করা একটি নীরব চুক্তি। প্রতিটি নির্বাচনের আগে জনগণ যেমন ভোট দিতে প্রস্তুত হয়, তেমনি রাষ্ট্রের কাছ থেকেও কিছু ন্যূনতম প্রত্যাশা তৈরি হয়। প্রশ্ন হলো-এই প্রত্যাশাগুলো কি সত্যিই গুরুত্ব পায়?
বাংলাদেশের সাধারণ মানুষ আজ আর শুধু স্লোগানে বিশ্বাস করে না। তারা চায় দৃশ্যমান পরিবর্তন। কর্মসংস্থান, দ্রব্যমূল্যের স্থিতিশীলতা, নিরাপদ জীবন, ন্যায়বিচার ও মত প্রকাশের স্বাধীনতা-এই বিষয়গুলো এখন ভোটের সিদ্ধান্তে বড় নিয়ামক হয়ে উঠেছে। একজন ভোটার যখন লাইনে দাঁড়ায়, তখন তার মনে থাকে নিজের পরিবারের ভবিষ্যৎ, সন্তানের শিক্ষা, চিকিৎসার নিশ্চয়তা এবং সম্মানজনক জীবনের স্বপ্ন।
কিন্তু বাস্তবতায় দেখা যায়, নির্বাচনের সময় প্রতিশ্রুতি যত সহজে দেওয়া হয়, নির্বাচনের পর তা বাস্তবায়নের আগ্রহ ততটাই ক্ষীণ হয়ে পড়ে। এখানেই জন্ম নেয় ভোট ও প্রত্যাশার মধ্যে দূরত্ব। এই দূরত্ব বাড়তে থাকলে জনগণের আস্থা দুর্বল হয়, গণতন্ত্র হয়ে পড়ে কেবল আনুষ্ঠানিকতা।
জনগণের আরেকটি বড় প্রত্যাশা হলো-ভোট যেন সত্যিকার অর্থে গণ্য হয়। অবাধ, সুষ্ঠু ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন ছাড়া ভোটের মর্যাদা থাকে না। মানুষ চায় এমন একটি পরিবেশ, যেখানে ভয় নয়, বরং মত প্রকাশই হবে স্বাভাবিক। প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও নির্বাচন ব্যবস্থার নিরপেক্ষতা তাই আজ জনআলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে।
বিশেষ করে তরুণ প্রজন্ম ভোটকে দেখছে পরিবর্তনের হাতিয়ার হিসেবে। তারা প্রশ্ন করছে-ভোট দিলে কী বদলাবে? এই প্রশ্নের বিশ্বাসযোগ্য উত্তর দিতে না পারলে ভোটের প্রতি আগ্রহ কমে যাওয়াটা অস্বাভাবিক নয়। ফলে ভোটের আগে কেবল প্রতিশ্রুতি নয়, প্রয়োজন অতীতের জবাবদিহি।
ভোট ও জনগণের প্রত্যাশার মধ্যে সেতুবন্ধন তৈরি করতে হলে নির্বাচিত প্রতিনিধিদের দায়িত্বশীল হতে হবে। ক্ষমতা নয়, সেবাই হতে হবে রাজনীতির মূল দর্শন। উন্নয়ন তখনই অর্থবহ হয়, যখন তা মানুষের জীবনে ইতিবাচক প্রভাব ফেলে।
শেষ পর্যন্ত ভোট হলো জনগণের কণ্ঠস্বর। এই কণ্ঠস্বর উপেক্ষিত হলে রাষ্ট্র দুর্বল হয়,আর সম্মানিত হলে শক্তিশালী হয় গণতন্ত্র। তাই প্রশ্ন একটাই-ভোট কি কেবল সংখ্যা হবে, নাকি জনগণের প্রত্যাশা পূরণের প্রকৃত চাবিকাঠি?